ইদ্রিস আলী, চৌহালী (সিরাজগঞ্জ)
সিরাজগঞ্জের চৌহালী
পাটের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় পাট কাটা শুরু হয়েছে। বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় পানির অভাব নেই কোথাও। পাট জাগ দেওয়া নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই তাদের। এদিকে, বিভিন্ন সময়ে দরপতন, ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও পাট পচানোর পানির অভাবে কৃষকরা এই ফসল চাষে কিছুটা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। এ ব্যাপারে সরকারের সুনজর দেওয়ার দাবি জানান এলাকার কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার ৭টি ইউনিয়নে মোট ৮৮৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ-আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আবাদ হয়েছে ৮৮৫ হেক্টর জমিতে। গত বছর আবাদ হয়েছিল ৭৯৫ হেক্টর জমিতে। এবার গত বছরের চেয়ে ৩৫ হেক্টর জমিতে বেশি আবাদ হয়েছে।
এদিকে শ্রাবণ মাসের শুরুতেই মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু কিছু এলাকার খাল-বিল ও পুকুর বৃষ্টির পানিতে ভরে যাওয়ায় পাট পচানো নিয়ে দুশ্চিন্তা না হলেও দেখা নেই বন্যার। এলাকার বেশির ভাগ খাল-বিল শুকনো থাকায় চিন্তিত কৃষকরা। পানির অভাবে পাট পচানো নিয়ে শঙ্কায় আছেন তারা। পর্যাপ্ত পানি পাওয়া না গেলে পাটের গুণগতমান নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
খাষপুখুরিয়া ইউনিয়নের কোদালিয়া গ্রামের কৃষক খোরশেদ আলম বলেন, গত দুবছর যাবৎ ৪ বিঘা জমিতে পাট চাষ করে জাগ দেওয়ার পানির অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। তাই এখন পাট চাষ ছেড়ে দিয়ে শাকসবজি ও মরিচের চাষ করতে চাই, এতে পরিশ্রম কম, লাভ বেশি।
উপজেলার খাষকাউলিয়া ইউনিয়নের উত্তর খাষকাউলিয়া গ্রামের কৃষক ইয়াসিন মোল্লা বলেন, বর্তমানে একজন দিনমজুরের দৈনিক হাজিরা ৬শ-৭শ টাকা। এক বিঘা জমির পাট কেটে তা জাগ দিয়ে শুকিয়ে ঘরে তুলতে যে পরিমাণ মজুরি দিতে হয়, তাতে খরচ মিটিয়ে মণপ্রতি পাটের দাম পড়ে ২ হাজার টাকার বেশি। আবার পাট পচনের খাল-বিলে অধিকাংশ সময় পানি থাকে না। আবার কোনো কোনো খালে মাছ চাষ করায় পানি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় পাট জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর ক্ষেত্রে বেশ সমস্যা হয়। তাই পাট চাষে তেমন আগ্রহ নেই।
খাষকাউলিয়া কুরকি গ্রামের কৃষক আবুল কালাম বলেন, আমি ২ বিঘা জমিতে পাট আবাদ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। পানির অভাবে পাট পচানো সমস্যায় পড়েছি। এবছর পাটের বাজার মূল্য ৩ হাজার ৮০০ থকে ৪ হাজার ১শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে । পাট কাঠিও বিক্রি হচ্ছে ৫শ থেকে৭শ টাকা পর্যন্ত ?
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, এ বছর চৌহালী উপজেলায় ৮৮৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। তার মধ্যে দেশি ৪৮৫, তোষা ৩৩৫, কেনাফ ২৫ ও মেস্তা ৩০ হেক্টর জমিতে। কিছু জমিতে রবি-১ আছে। যা আমাদের লক্ষ্যমাত্রার অনেক বেশি। রবি-১ বীজের জন্য কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। আশা করি আগামী বছর রবি-১ জাতের আবাদ এক হাজার হেক্টর ছাড়িয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, উপজেলায় যে পাট চাষ হচ্ছে তা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৩৫ হেক্টর বেশি। মাঠের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো। রোগ ও পোকা-মাকড় দমন ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য আন্তঃপরিচর্যা বিষয়ে পরামর্শ নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন উপসহকারী কর্মকর্তারা। আশা করছি আশানুরূপ পাট উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকের মুখে হাসি ফুটে উঠবে।
"





































