যে হৃদয় প্রতিদিন রক্তক্ষরণ হয়, সে-ই তো জাতির অভিভাবক

বুকের ভেতর স্বজন হারানোর গভীর ক্ষত আর অসীম শূন্যতা চেপে রেখে, নিজের সর্বস্ব দেশ ও জনগণের কল্যাণে বিলিয়ে দেওয়ার নামই প্রকৃত নেতৃত্ব। পিতা, মাতা আর অনুজের স্মৃতি বুকে ধারণ করে আজ এক অসমাপ্ত যুদ্ধ লড়ে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। সাধারণ মানুষ যেখানে নিজের ও পরিবারের ব্যথায় কাঁদে, সেখানে একজন প্রকৃত রাষ্ট্রনায়ক কাঁদেন গোটা জাতির দুঃখ-কষ্টে। জনাব তারেক রহমান আজ নিজের ব্যক্তিগত শোক এবং ১৮ কোটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের গুরুদায়িত্ব—দুটোই এক অদম্য শক্তিতে বয়ে বেড়াচ্ছেন।
ইতিহাসের পাতা ওল্টালে আমাদের ফিরে যেতে হয় ১৯৮১ সালের ৩০ মে। ভোরের আকাশ সেদিন যেন বাঙালির রক্তে লাল হয়ে উঠেছিল। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান—যিনি স্বাধীনতার ঘোষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্বনির্ভর বাংলাদেশের রূপকার, বহুদলীয় গণতন্ত্রের স্থপতি এবং এদেশের মানুষের সাহসের প্রতীক; তিনি সেদিন চিরতরে বিদায় নেন। কিন্তু সেদিনের এক ১৮ বছরের তরুণের কাছে তিনি রাষ্ট্রনায়কের চেয়েও বড় পরিচয়ে ছিলেন শুধুই "বাবা"। "বাবা বাড়ি কখন আসবেন?"—এই আকুল প্রশ্নের উত্তর তরুণ তারেক রহমান আর কোনোদিন পাননি। আজও ঈদের আনন্দঘন সকালে যখন সবাই বাবার পা ছুঁয়ে সালাম করে, তখন দূর প্রবাসে দাঁড়িয়ে তিনি পিতার স্মৃতির উদ্দেশে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। "বাবা, আমি তোমার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছি"—এই কথাটি শুনিয়ে পরম তৃপ্তি পাওয়ার মতো মানুষটি আজ আর নেই। এই অপূর্ণতা আর সীমাহীন শূন্যতা প্রতিদিন তাঁর বুকের ভেতর রক্তক্ষরণ ঘটায়।
একইভাবে, "গণতন্ত্রের মা" দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, যাঁর এক ডাকে রাজপথে লাখো মানুষের ঢল নামে; তিনি এই সন্তানের কাছে শুধুই "মা"। কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠ কিংবা হাসপাতালের সাদা বিছানায় যখন মা একা রাত কাটিয়েছেন, তখন দূর প্রবাসে থাকা এই সন্তানের মায়ের মাথায় একটু পানি দেওয়ার কিংবা চোখের পানি মুছে দিয়ে "মা, ভয় নেই, আমি আছি" বলার সুযোগটুকুও হয়নি। একজন সন্তানের জন্য এই দূরত্বের অসহায়ত্ব ও যাতনা কতখানি নির্মম, তা প্রতিদিন তাঁর বুকের ভেতরের কষ্টকে বাড়িয়ে দেয়।
এরই মাঝে এসেছে ছোট ভাই, পরম বন্ধু ও সহযোদ্ধা আরাফাত রহমান কোকোর অকাল প্রস্থান। যে ভাইয়ের সাথে একসাথে বড় হওয়া, একসাথে স্বপ্ন দেখা—সেই আদরের ভাইয়ের জানাজায় কফিনে কাঁধ দেওয়া কিংবা স্বশরীরে কবরে মাটি দেওয়ার অধিকার থেকেও তিনি বঞ্চিত হয়েছেন। "ভাইয়া" ডাকটি শোনার জন্য তাঁর কান আজও ব্যাকুল হয়ে থাকে।পরিবারের তিনটি মূল স্তম্ভই আজ অনুপস্থিত; এই শোক হিমালয়ের চেয়েও ভারী। এতকিছুর পরেও থমকে যাননি জনাব তারেক রহমান। কারণ তাঁর ধমনীতে মিশে আছে খাঁটি দেশপ্রেমের রক্ত। পিতা শিখিয়েছেন "আগে দেশ, তারপর পরিবার"; মাতা শিখিয়েছেন "ত্যাগ ছাড়া বিজয় আসে না"; আর অনুজ শিখিয়েছেন "শেষ পর্যন্ত লড়ে যাও"। তাই নিজের সমস্ত ব্যক্তিগত শোককে তিনি আজ রূপান্তর করেছেন জাতীয় শক্তিতে।
যখন দেশের কোনো কৃষক ফসলের ন্যায্য দাম না পেয়ে হাহাকার করে, তখন জনাব তারেক রহমান নিজের কষ্ট ভুলে যান। যখন কোনো মা সন্তানের একটি চাকরির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘোরেন, তখন তিনি নিজের মায়ের কষ্টকে মেলাবেন সাধারণের মাঝে। আর যখন কোনো তরুণ বেকারত্বের অভিশাপ সইতে না পেরে হতাশায় নিমজ্জিত হয়, তখন তিনি নিজের ভাইয়ের শূন্যতা অনুভব করেন দেশের প্রতিটি যুবকের মাঝে।
যার বুকের ভেতর স্বজন হারানোর এমন গভীর ক্ষত, সে-ই তো অনুধাবন করতে পারে দেশের সাধারণ মানুষের প্রকৃত বেদনা। তাই জনাব তারেক রহমান আজ অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক আপসহীন "প্রতিরোধ", তরুণ প্রজন্মের হাতে আধুনিক বাংলাদেশের "সম্ভাবনা" এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের শেষ "ভরসা"।
ইতিহাস সাক্ষী, যারা অমর হয়েছেন তারা ত্যাগ ও রক্ত দিয়েই তা অর্জন করেছেন। ব্যক্তি তারেক রহমান হয়তো পিতা, মাতা আর ভাইকে হারিয়েছেন; কিন্তু তার বিনিময়ে বাংলাদেশ পেয়েছে এক অদম্য যোদ্ধা, দূরদর্শী স্বপ্নদ্রষ্টা এবং একজন যোগ্য অভিভাবক।
মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা, তিনি যেন তাঁকে এই কণ্টকাকীর্ণ পথ পাড়ি দেওয়ার ধৈর্য ও শক্তি দান করেন এবং তাঁর হাত ধরেই এই জাতিকে মুক্তির আলো দেখান।
কৃষিবিদ মোঃ মনোয়ারুল ইসলাম এনাম, যুগ্ম-মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য, জিয়া পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি।









































