আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

  ৪ ঘণ্টা আগে

আমতলীতে প্রবাহমান খালে মাছ চাষ বন্ধ করার দাবীতে মানববন্দন 

বরগুনার আমতলী উপজেলার আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের গোডাঙ্গা খালে মাছ চাষের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকার কৃষক ও ভুক্তভোগিরা।

সোমবার দুপুর ১টায় গোডাঙ্গা খালের পাড়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু জাফর মিয়ার সভাপতিত্তে ৩ শতাধিক কৃষক ঘন্টা ব্যাপি এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে অংশ গ্রহন করেন।

জানা গেছে, এলাকার প্রভাবশালীরা গোডাঙ্গা স্লুইজগেট থেকে ২০ফুট দুরে ঘনজালের নেট দিয়ে খালের মধ্যে বেড়া দিয়ে মাছ চাষ শুরু করেছেন। ঘনজালের বেড়া দেওয়ায় প্রবাহমান খালের পানি ওঠা নামা কমে গেছে। পানি ওঠা নামা কমে যাওয়ায় এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগি ও কৃষকরা জানান,এই খালের পানি দিয়ে তারা কৃষিকাজসহ পারিবারিক কাজ করে থাকেন ও খালের দুই পাড়ের বসবাসরত পরিবারগুলো পারিবারিক গৃহস্তলির কাজ ও গরু ছাগলের গোসলসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে থাকেন এবং দুপাড়ে বসবাসরত পরিবারগুলোর মধ্যে অনেকে এই খাল থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন।

সম্প্রতি স্লুইজগেট থেকে ২০ ফুট দুরে ঘনজালের নেট দিয়ে খালের মধ্যে বেড়া দিয়ে মাছ চাষ শুরু করেছেন প্রভাবশালীরা। এতে কৃষকসহ খালের পাড়ের বসবাসরত ভুক্তভোগিরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা দ্রুত এই প্রবাহমান খালে মাছ চাষ বন্দ করার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবী জানান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু জাফর মিয়ার সভাপতিত্বে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে বক্তাব্য রাখেন, ভুক্তভোগি জালাল হাওওলাদার, মো. হারুন তালুকদার, আলতাফ হোসেন, সোহরাফ হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন, মাফিয়া বেগম ও মরিয়ম বেগম প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, এই খালে মাছ চাষ করা হলে আমাদের ভোগান্তির কোন শেষ থাকবেনাআমাদের বেচে থাকার কোন কোন উপায় থাকবেনা।

ভুক্তভোগি মো. হারুর তালুকদার বলেন, স্থানীয় জাহিদুল ইসলাম মাষ্টারের তত্ত্বাবধানে কিছু প্রভাবশালী খালের মধ্যে নেট দিয়ে বেড়া দিয়ে মাছ চাষ শুরু করেছেন। যার কারনে এলাকার কৃষকসহ সাধারন মানুষের ভোগের কোন শেষ থাকবেনা।

কৃষক জাহাঙ্গির হোসেন বলেন, এই খালে মাছ চাষ করা হলে আমাদের বেচে থাকার কোন উপায় থাকবে না এই খালে পানি দিয়ে আমরা ইরি বোরো ও রবি মৌসুমে ফসল ফলিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবন নির্বাহ করে থাকি। সহিদ হাওলাদার নামে এক ভুক্তভোগি জানান, খালে মাছ চাষ করার প্রতিবাদ করায় প্রভাবশালী জাকির হোসেন আমার বৃদ্ধ মাকে মারধোর করেছে। আমি এঘটনার বিচার চাই।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবু জাফর বলেন, শতশত কৃষকের ক্ষতি হবে মাছ চাষ করলে। এই খালের মাছ চাষ বন্দ করার জন্য প্রশাসনের উচ্চমহলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করি। যদি প্রশাসন দ্রুত গতিতে মাছ চাষ কার্যক্রম বন্দ না করেন জনসাধারনের সুবিদার জন্য তাদেরকে সাথে নিয়ে কঠোর আন্দোলন শুর করা হবে।

এবিষয় মো. জাহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে মুঠোফোনে তিনি তার বিরুদ্ধে মাছ চাষের অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন, আমি এর সাথে জড়িত নাই। আফজাল মৃধা নামক জনৈক ব্যাক্তি ইজারা নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেছেন। মাছ চাষের কারনের এলাকাবাসীর ক্ষতি হবে কেনো বরং উপকার হচ্ছে। এই খালটি কচুরি পানায় ভরপুর ছিলো খালের পানি কেহ ব্যবহার করতে পারতোনা। মশা মাছির কারখানা ছিল খালটি পরিস্কার করায় এখন সাধারন মানুষ খালে পানি ব্যবহার করতে পারছেন।

এবিষয় আমতলী উপজেলাসহকারী কমিশনার ভুমি মো. আশরাফুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়