ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

  ১ ঘণ্টা আগে

উত্তর ফটিকছড়িতে ভয়াবহ বন্যা, ক্ষতিগ্রস্ত ফসলি জমি ও সড়ক

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে টানা পাঁচ দিনের টানা বৃষ্টিতে বন্যা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে খাগড়াছড়ি থেকে উৎপত্তি হওয়া হালদার পানি বিপৎসীমার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পাহাড় থেকে পানি নিচে নামা শুরু করেছে গত কয়েক দিন ধরে, তবে বৃহস্পতিবার সবচেয়ে বেড়েছিল হালদা নদীর প্রবাহ ।

ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় ফটিকছড়ি উপজেলার শান্তিরহাট, রত্নপুর, হাসনাবাদ, ঘরকাটা,ফেলারখিল, ধামারখিল,চানপুর,কুলালপাড়া, হাপানিয়া, সুন্দরপুর, ভূজপুর, ফকিরাচান, হারুয়ালছড়ি, সুয়াবিলসহ বিভিন্ন অংশে প্লাবিত হয়েছে এবং নতুন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বেড়েছে। বিশেষ করে ফসলি জমি, সড়ক ও হালদা নদীর পাড়ে ভাঙনে ফটিকছড়ির উত্তর অঞ্চলের সাধারণ মানুষের বেশ ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলার প্রধান নদী ও খালগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে গত বুধবার রাতে বিপৎসীমায় পৌঁছায় হালদা ও ধুরং-এর পানি। ফলে তীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। পানিবন্দী থাকে শতশত মানুষ। তবে আজ শুক্রবার সকাল থেকে বৃষ্টিপাত কমে গেছে, এতে কমতে শুরু করছে এসব পানি।

বিপৎসীমায় প্রবাহিত খালগুলো হলো হালদা নদী, ধুরুং খাল, সর্তা খাল, ফটিকছড়ি খালসহ বিভিন্ন শাখা নদী ও পাহাড়ি ছড়ার পানির উচ্চতা রাতভর বেড়েছে। সন্ধ্যার পরও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকালে এবং উজান থেকে ঢল নামতে থাকায় নদী-খালের পানি আরও বৃদ্ধি পাবে। এতে গত মঙ্গলবার উত্তর ফটিকছড়ির ভূজপুরের বিভিন্ন নিচু এলাকা, শত শত একর ফসলি জমি ও বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে নদী ও খালসংলগ্ন ভাঙনপ্রবণ এলাকা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় নদী-খালের বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে।

এদিকে, ফটিকছড়ি সদর বিবিরহাট বাজারের পশ্চিম পাশে ধুরুং খালের বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে পুরো বিবিরহাট বাজার প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি স্থানীয় সোশ্যাল মাধ্যমকে জানান, আমরা বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হচ্ছে। রাতে যদি ক্রমাগত বৃষ্টি হতে থাকে, তাহলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে ফটিকছড়িতে সবধরনের উচ্চ মাধ্যমিক ও আলিম পরীক্ষার বাতিল করা হয়েছে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়