নাহিদ হাসান রবিন, শেরপুর (বগুড়া)
পর্যটন
করতোয়া নদী হতে পারে স্বপ্নের পর্যটনকেন্দ্র

সভ্যতা ও সংস্কৃতির ধারক করতোয়া নদী আজ নিজেই অস্তিত্ব সংকটে। উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন ও বাণিজ্যিক জনপদ বগুড়ার শেরপুর পৌরশহরের কোলঘেঁষে বয়ে যাওয়া নদীটি এখন কেবলই এক ধূসর স্মৃতি। একসময় যে নদী ছিল সওদাগরি নৌকার প্রধান পথ এবং এ অঞ্চলের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি, কালের বিবর্তনে ও দখলদারদের করাল গ্রাসে তা আজ একটি সরু খালে পরিণত হয়েছে। তবে ধ্বংসের এই স্তূপ থেকেই দেখা যেতে পারে নতুন আশার আলো। সুপরিকল্পিত সংস্কারের মাধ্যমে এই নদীটিই হয়ে উঠতে পারে উত্তরবঙ্গের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পর্যটনকেন্দ্র। নতুন প্রজন্মের কাছে হতে পারে সুদূর অতীতের স্মৃতিগাথা।
?সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের ধুনট রোডস্থ করতোয়া ব্রিজ থেকে উপজেলা ভূমি অফিস পর্যন্ত নদীর দুই পাড় আজ আবর্জনার ভাগাড়। ড্রেন ও রেস্তোরাঁর বর্জ্য সরাসরি নদীতে মিশে পানিকে করেছে বিষাক্ত, আর বাতাসে ছড়িয়ে দিচ্ছে অসহনীয় দুর্গন্ধ। পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। এ সময়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, পৌর কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার যদি সমন্বিত উদ্যোগ নেন, তবে অবহেলিত এই জনপদ ফিরে পেতে পারে তার হারিয়ে যাওয়া জৌলুস। নদীর তীরজুড়ে আধুনিক ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা যেতে পারে। বাহারি পার্কিং টাইলসে মোড়ানো এই হাঁটার পথের পাশে থাকবে কারুকার্যময় গ্রিলের নান্দনিক বেষ্টনী, যা পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এই কংক্রিটের কাঠামোর সমান্তরালে গড়ে তোলা যেতে পারে সবুজের এক অভয়ারণ্য। যেখানে কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া ও সোনালুর মতো বাহারি ফুলগাছের পাশাপাশি সারিবদ্ধ ফলদ ও হরিতকী-বহেড়ার মতো ঔষধি বৃক্ষ এলাকাটিকে একটি স্নিগ্ধ অক্সিজেন কেন্দ্রে পরিণত করবে।
?নান্দনিকতার পূর্ণতা দিতে নদীর পাড়ে নির্দিষ্ট দূরত্বে স্থাপন করা যেতে পারে কংক্রিটের শৈল্পিক ছাতা ও আরামদায়ক আসন। দিনের ক্লান্তি শেষে মানুষ এখানে বসে নদীর স্নিগ্ধতা উপভোগ করবে। এছাড়া শেরপুরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে নদীর তীরে একটি নান্দনিক মুক্তমঞ্চ নির্মাণ করা যেতে পারে, যা স্থানীয় শিল্পীদের মিলনমেলায় পরিণত হবে। রাতের অন্ধকার কাটাতে আধুনিক আলোকসজ্জা এলাকাটিকে দেবে এক মায়াবী রূপ।
পরিচ্ছন্নতা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে পুরো এলাকায় নির্দিষ্ট দূরত্বে আধুনিক ডাস্টবিন স্থাপন এবং সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা ও প্রহরী নিয়োগের বিষয়টিও পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। এ ছাড়া পৌরসভা কর্তৃক কিছু আধুনিক কফিশপ, ফাস্টফুড ও শোপিসের দোকানের
পজিশন বরাদ্দ দিলে একদিকে যেমন বেকারদের কর্মসংস্থান হবে, অন্যদিকে পৌরসভার জন্য তৈরি হবে আয়ের স্থায়ী উৎস। এটি কেবল একটি শহররক্ষা প্রকল্প হবে না, বরং নতুন সরকারের আমলে একটি আদর্শ ও সমৃদ্ধ জনপদ গড়ে তোলার অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। দখলমুক্ত নদী, মুক্তমঞ্চের প্রাণচাঞ্চল্য আর সবুজের সুবাসে করতোয়া ফিরে পাক তার হারানো গৌরব।
"








































