reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১ ঘণ্টা আগে

নরওয়ের সঙ্গে কখনো জেতেনি ব্রাজিল

ফাইল ছবি

বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চে ব্রাজিল মানেই এক নান্দনিক ঝড়, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নের অহংকার আর হলুদ-সবুজ জার্সির চেনা দাপট। ল্যাটিন আমেরিকার এই পরাশক্তির সামনে বিশ্বের যেকোনো ফুটবল শক্তি মাঠে নামার আগে দুবার ভাবে। কিন্তু ফুটবল ইতিহাসের পাতা ওল্টালে এমন এক অদ্ভুত ও অবিশ্বাস্য সত্য সামনে আসে, যা ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ভক্তদের জন্য চরম এক অস্বস্তির কারণ। সেই সত্যের নাম—স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ নরওয়ে।

ফুটবলবিশ্ব যাকে 'সাম্বার দেশ' হিসেবে চেনে, সেই ব্রাজিল আজ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে কখনোই নরওয়েকে হারাতে পারেনি। আসন্ন ম্যাচে তাই ফুটবলপ্রেমীদের মনে একটাই প্রশ্ন—এবার কি ভাঙবে সেই অজেয় নরওয়ের দেয়াল, নাকি ব্রাজিলের জন্য আবারও অপেক্ষা করছে নতুন কোনো দুঃস্বপ্ন?

পরিসংখ্যানের পাতায় 'অজেয়' নরওয়ে : ব্রাজিল ও নরওয়ের ফুটবলীয় লড়াইয়ের ইতিহাস খুব দীর্ঘ না হলেও, যতটুকু আছে তা পুরোপুরি নরওয়ের পক্ষে কথা বলে। এ পর্যন্ত দল দুটি মোট ৪ বার আন্তর্জাতিক ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। বিশ্বফুটবলের যেকোনো সাধারণ দর্শকের কাছে পরিসংখ্যানটি অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে:

মোট ম্যাচ: ৪টি

নরওয়ের জয়: ২টিতে

ড্র: ২টিতে

ব্রাজিলের জয়: ০!

বিশ্বের আর কোনো দলের বিপক্ষে ব্রাজিলের এমন জয়হীন থাকার রেকর্ড নেই। ফলে 'অজেয় নরওয়ে' শব্দবন্ধটি কোনো অতিশয়োক্তি নয়, বরং এক নির্মম বাস্তব সত্য।

১৯৯৮-এর সেই ক্ষতের স্মৃতি : ব্রাজিল ও নরওয়ের মধ্যকার সবচেয়ে নাটকীয় ও ঐতিহাসিক ম্যাচটি হয়েছিল ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে। মার্সেইয়ের মাঠে গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে এক দুর্দান্ত ব্রাজিলের মুখোমুখি হয়েছিল নরওয়ে। ম্যাচের ৭৮ মিনিটে বেবেতোর গোলে ব্রাজিল যখন এগিয়ে যায়, তখন সবাই ভেবেছিল নরওয়ে-জুজু এবার কাটল।

কিন্তু নাটকের তখনও অনেক বাকি ছিল। ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে পাশা উল্টে দেয় নরওয়েজিয়ানরা। ৮৩ মিনিটে তোরে আন্দ্রে ফ্লোর গোল এবং ৮৯ মিনিটে কেজেতিল রেকডালের পেনাল্টি কিকে ২-১ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় নরওয়ে। বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিলের অহংকার গুঁড়িয়ে দেওয়ার সেই স্মৃতি আজও সাম্বার দেশে এক বড় ক্ষত।

কেন নরওয়ের সামনে বারবার থমকে যায় ব্রাজিল : খেলার ধরনের দিক থেকে নরওয়ে সবসময়ই ব্রাজিলের চিরচেনা ছন্দের বিপরীত মেরুতে অবস্থান করে। ব্রাজিলিয়ানরা যেখানে মাঠে শৈল্পিক পাসিং, গতি আর ব্যক্তিগত স্কিলের ওপর নির্ভর করে, সেখানে নরওয়ে খেলে যান্ত্রিক, সুশৃঙ্খল এবং শারীরিক শক্তির ফুটবল।

লং-বল খেলা, দীর্ঘদেহী ডিফেন্ডার ও স্ট্রাইকারদের আকাশপথের আধিপত্য এবং রক্ষণভাগে নিশ্ছিদ্র দেয়াল তুলে রাখা—নরওয়ের এই ইউরোপীয় ঘরানার ফুটবলের সামনে বারবার খেই হারিয়েছে ব্রাজিল।

এবার কি ইতিহাস বদলাবে : বর্তমান ফুটবল বিশ্বে নরওয়ে দলে খেলছেন আর্লিং হালান্ডের মতো বিশ্বসেরা এবং গোলমেশিন খ্যাত স্ট্রাইকার। নরওয়ের আক্রমণভাগ এখন যেকোনো রক্ষণভাগের জন্যই ত্রাস। অন্যদিকে, ব্রাজিল দল বর্তমানে এক চরম ট্রানজিশন পিরিয়ডের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দলে প্রতিভার অভাব না থাকলেও ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট।

তাই মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে তাত্ত্বিকভাবে ব্রাজিল ফেভারিট হলেও, মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে এগিয়ে থাকবে নরওয়েই। অজেয় নরওয়ের এই দুর্ভেদ্য প্রাচীর ভেঙে ব্রাজিল কি পারবে তাদের ইতিহাসের অন্যতম বড় এক কলঙ্ক মোচন করতে? নাকি স্ক্যান্ডিনেভিয়ান বরফে আবারও জমে যাবে সাম্বার ছন্দ—তা দেখার অপেক্ষায় পুরো ফুটবল বিশ্ব।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়