উত্তরবঙ্গের কৃষি বিপ্লবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩ হাজার কোটি টাকার তহবিল

দেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার এবং কৃষিপণ্যের আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি প্রসারে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের জেলাগুলোকে কেন্দ্র করে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৩ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃ অর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে।
তহবিল ও সুদহার: অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৪% সুদে এই বিশেষ তহবিল সংগ্রহ করবে।
ঋণের খাতওয়ারি বরাদ্দ ও সীমা: তহবিলের অর্থ চারটি প্রধান খাতে নির্দিষ্ট হারে বণ্টন করা হয়েছে।
কৃষি উৎপাদনে বরাদ্দের হার ১৫% এবং সর্বোচ্চ ঋণসীমা ৩০ লাখ টাকা।
সংরক্ষণ, পরিবহন ও অবকাঠামো: বরাদ্দের হার ৩৫% এবং সর্বোচ্চ ঋণসীমা ৪০ কোটি টাকা।
কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাতকরণ: বরাদ্দের হার ৩৫% এবং সর্বোচ্চ ঋণসীমা ৪০ কোটি টাকা।
কৃষিপণ্য রপ্তানি: বরাদ্দের হার ১৫% এবং সর্বোচ্চ ঋণসীমা ১৫ কোটি টাকা।
বিশেষ প্রয়োজনে ব্যাংকগুলো তাদের ঋণের সীমা ২০ শতাংশ পর্যন্ত কম-বেশি করতে পারবে।
মেয়াদকাল ও গ্রেস পিরিয়ড:ঋণ পরিশোধের জন্য নিম্নোক্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কৃষি উৎপাদন: সর্বোচ্চ ১৮ মাস, যার মধ্যে ৩ মাসের গ্রেস পিরিয়ড অন্তর্ভুক্ত। অন্য খাত: সর্বোচ্চ ৩৬ মাস, যার মধ্যে ৩ থেকে ৬ মাসের গ্রেস পিরিয়ড অন্তর্ভুক্ত।
ঋণ গ্রহীতার যোগ্যতা: রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের নিম্নলিখিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই সুবিধা পাবেন। একক বা দলবদ্ধভাবে ফসল উৎপাদনকারী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খামারি, কৃষিভিত্তিক সিএমএসএমই (কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি) উদ্যোক্তা, কৃষিপণ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসমূহ এইসুবিধা পাবেন।
জামানত সংক্রান্ত বিশেষ সুবিধা: নারী ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য অর্থায়ন প্রক্রিয়া সহজ করার লক্ষ্যে স্থাবর সম্পত্তির জামানতের বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়েছে। এক্ষেত্রে তারা সামাজিক বা দলগত জামানতের ভিত্তিতে ঋণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
তহবিলের লক্ষ্য ও প্রেক্ষাপট: উত্তরবঙ্গের বিশাল কৃষিজ উৎপাদনের বিপরীতে যথাযথ সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের অভাব দীর্ঘদিনের একটি সংকট। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই বিশেষ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো-খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও দারিদ্র্য বিমোচন। ফসল-উত্তর অপচয় রোধ করে আধুনিক বাজারজাতকরণ অবকাঠামো তৈরি। স্থানীয় কৃষিপণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানিযোগ্য করে তোলা। গ্রামীণ পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি। সুদহার ও সহজলভ্যতাকৃষি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে এই তহবিলে রাখা হয়েছে তুলনামূলক কম সুদহার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর নির্দেশনাতহবিলের অপব্যবহার রোধে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট কিছু নির্দেশনা দিয়েছে:তহবিলের অর্থ শুধুমাত্র নতুন ঋণ হিসেবেই বিতরণ করতে হবে।কোনো অবস্থাতেই পুরোনো ঋণ সমন্বয় বা খেলাপি ঋণ নিয়মিতকরণের কাজে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে না।
খেলাপি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই ঋণের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।নির্ধারিত মাশুল ছাড়া গ্রাহকের কাছ থেকে অন্য কোনো ফি আদায় করা যাবে না।
যেভাবে আবেদন করতে হবে: আগ্রহী উদ্যোক্তা ও কৃষকদের তাদের নিজ নিজ এলাকার নিকটস্থ তফসিলি ব্যাংকের শাখা, উপশাখা কিংবা এজেন্ট ব্যাংকিং পয়েন্টে যোগাযোগ করে বিস্তারিত তথ্য জানার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।উত্তরাঞ্চলের কৃষিকে আধুনিক ও বাণিজ্যিকভাবে সফল করতে এই বিশেষ তহবিল স্থানীয় অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।









































