আদালত প্রতিবেদক

  ৩ ঘণ্টা আগে

শ্রমিক নাঈম পেলেন ক্ষতিপূরণের ৩০ লাখ টাকা

ওয়ার্কশপে কাজ করতে গিয়ে হাত হারানো শিশুশ্রমিক নাঈম হাসান নাহিদ ৬ বছরের আইনি লড়াইয়ে অবশেষে ক্ষতিপূরণের ৩০ লাখ টাকা পেলেন। আগে দুই ধাপে মোট ১৫ লাখ টাকা দেওয়ার পর আজ ওয়ার্কশপ মালিক অবশিষ্ট ১৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ বুঝিয়ে দেন বলে জানান শিশু নাঈমের পক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক। আইনজীবী বলেন, নাঈমের বয়স ১৮ বছর হওয়া পর্যন্ত তাকে প্রতি মাসে ৭ হাজার টাকা করে দেওয়ার যে আদেশ, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। সে জন্য এই মামলার বিষয়টি আপাতত মুলতবি রাখা হয়েছে। নাঈমের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার আড়াইসিধা গ্রামে। তার বাবা নিয়ামুল হোসেন আনোয়ার পেশায় জুতা ব্যবসায়ী। কর্মসূত্রে পরিবার নিয়ে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বাস করছিলেন তিনি।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হলে আনোয়ার কর্মহীন হয়ে পড়েন। সংসারের চাপ সামলাতে নাঈমকে তার মা-বাবা ভৈরবের একটি ওয়ার্কশপে কাজের জন্য রাখেন। ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ওয়ার্কশপে কাজ করতে গিয়ে নাঈমের ডান হাত ড্রিল মেশিনে ঢুকে যায়। পরে শিশুটিকে বাঁচাতে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কনুই থেকে ডান হাত বিচ্ছিন্ন করেন। নাঈমের হাত হারানোর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তার বাবা মো. নিয়ামুল হোসেন আনোয়ার হাইকোর্টে রিট করেন। সেই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ২৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেন।

একপর্যায়ে রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে হাইকোর্ট শিশু নাঈমের নামে ১৫ লাখ টাকা করে ১০ বছর মেয়াদে দু’টি ফিক্সড ডিপোজিট করে দিতে ওয়ার্কশপের মালিক ইকবাল হোসেন ইয়াকুবকে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে নাঈমের পড়ালেখার খরচ হিসেবে প্রতি মাসে ৭ হাজার টাকা করে তার ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে মালিকপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ওয়ার্কশপমালিক ইয়াকুব হোসেন লিভ টু আপিল করেন। সেই লিভ টু আপিল খারিজ করে দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ফলে নাঈমকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়