reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ০৪ জুলাই, ২০২৬

দুর্নীতির অভিযোগে বিভাগীয় তদন্ত

ইইডি―র ঢাকা জোনে বহাল বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের মোজাহিদুল

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সাবেক নেতা মোজাহিদুল ইসলাম আলিফ এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) ঢাকা মেট্রো জোনের দায়িত্বে। ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে নাম সংশ্লিষ্টতার উল্লেখ থাকলেও দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বরং দেয়া হয়েছে পদোন্নতি। এতে অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৩০ মার্চ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে মোজাহিদুল ইসলাম আলিফকে সাভার থেকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো জোনে বদলি করা হয়। এরপর থেকেই তার এ পদায়ন ঘিরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এর আগেও গণমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

অধিদপ্তর-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, বর্তমানে আগারগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নতুন ‘প্রধান কার্যালয়’ ভবণ নির্মাণে প্রায় ১০০ কোটি টাকার দরপত্র মূল্যায়নের কাজ চলমান রয়েছে। একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দিতেই তাকে গুরুত্বপূর্ণ এই পদে নিযুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। উপরন্তু এ পদায়নকে কেন্দ্র করে মোটা অংঙ্কের অর্থ লেনদেনেরও অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রগুলো জানায়, সহকারী প্রকৌশলী থাকাকালে মোজাহিদুল ইসলাম আলিফের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা হয়েছিল। গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের অনেক নেতাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হলেও আলিফ এখনও গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন।

২০২২ সালে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো কার্যালয়ের অধীন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজে বরাদ্দবিহীন বিল পরিশোধসহ নানা অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই তদন্ত প্রতিবেদনে মোজাহিদুল ইসলাম আলিফের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে উল্লেখ করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর কাফরুল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছয়তলা ভিতবিশিষ্ট ছয়তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজের জন্য ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রকল্পটির দরপত্র মূল্য ছিল ৪ কোটি ৪৩ হাজার ১০৫ টাকা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর মোজাহিদুল ইসলাম আলিফের সংশ্লিষ্টতায় ষষ্ঠ তলার আরসিসি কাজ, ১০ ও ৫ ইঞ্চি ইটের গাঁথুনি, আস্তর, দরজা-জানালা, গ্রিলসহ বিভিন্ন কাজের বিপরীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৪১ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। তবে ২০২২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর তদন্ত কমিটি সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পায়, ভবনটির তখনও চতুর্থ তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল এবং দ্বিতীয় তলার ইটের গাঁথুনির কাজও পুরোপুরি শেষ হয়নি। অর্থাৎ প্রায় এক বছর পরও প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ টাকার কাজ অসম্পন্ন ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই ঠিকাদারকে বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে আলিফের ভূমিকা ছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, মোজাহিদুল ইসলাম আলিফ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সুবিধা নিয়েই আগাম বিল ছাড়ে সহায়তা করেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোজাহিদুল ইসলাম আলিফ বলেন, এই বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। আপনারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়