reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১ ঘণ্টা আগে

তীব্র তাপদাহ উপেক্ষা করে খামেনির দাফনে লাখো মানুষ, প্রতিশোধের স্লোগানে মুখর মাশহাদ

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন সম্পন্ন করতে তার জন্মভূমি মাশহাদ শহরে সমবেত হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। তীব্র তাপদাহ উপেক্ষা করে প্রতিশোধের স্লোগানে মুখরিত হয়েছে উঠেছে মাশদাহের আকাশ-বাতাস। দীর্ঘ ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শেষে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তার মরদেহ চিরনিদ্রায় শায়িত করার মধ্য দিয়ে এই আনুষ্ঠানিকতার সমাপ্তি ঘটছে।

আজ সকাল থেকেই ইরানের পূর্বাঞ্চলীয় মাশহাদ শহরের রাস্তায় তিল ধারণের জায়গা ছিল না। শিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম পবিত্রতম এই নগরীতে প্রিয় নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে দেশটির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় খামেনির কফিনবাহী বিমানটিকে একটি যুদ্ধবিমান দিয়ে পাহারা দিয়ে মাশহাদে আনা হয়। তেহরান, কোম এবং প্রতিবেশী দেশ ইরাকে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর এটিই ছিল শেষ শোকানুষ্ঠান।

বার্তা সংস্থা এএফপির সংবাদদাতারা জানিয়েছেন, জানাজায় উপস্থিত পুরুষদের পরনে ছিল কালো শার্ট এবং নারীরা আবৃত ছিলেন কালো চাদরে। অনেকের হাতেই ছিল শিয়া ঐতিহ্যের লাল পতাকা, যা মূলত অন্যায় হত্যাকাণ্ডের ‘প্রতিশোধ’ বা ‘রক্তের বদলা’ নেওয়ার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

মাশহাদের এক ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আফসারিয়ান (৪১) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এখানে উপস্থিত প্রতিটি মানুষের চোখে প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে। কূটনীতির টেবিলে কী আলোচনা হচ্ছে বা সরকারের নীতি কী তা আমরা জানি না, তবে আমরা সবাই লাল পতাকা হাতে রাজপথে নেমেছি কেবল প্রতিশোধের দাবিতে।’

মাশহাদের গভর্নর হাসান হোসেইনি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, এই ঐতিহাসিক দাফন অনুষ্ঠানে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ (১৫ মিলিয়ন) মানুষের সমাগম ঘটবে বলে তারা ধারণা করছেন। তীব্র তাপদাহ ও তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোয় উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মানুষদের স্বস্তি দিতে শহরজুড়ে কৃত্রিম পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জানাজাস্থলের কাছেই একটি হোটেলের দেওয়ালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিশাল ব্যঙ্গচিত্র ঝুলিয়ে তাঁর মাথার দাম ঘোষণা করার পোস্টার দেখা গেছে। আরেকটি ব্যানারে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছবির নিচে ইংরেজিতে লেখা ছিল—‘এখানে কেবল রক্তপাতই ঘটবে’ (There will be blood)।

এদিকে ইরাকে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা দীর্ঘায়িত হওয়ায় আজ ভোর ৬টার জানাজা পিছিয়ে দুপুর ২টায় শুরু করতে হয়। এর মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তেহরান ও মাশহাদের মধ্যকার (প্রায় ৮০০ কিলোমিটার) একমাত্র রেল যোগাযোগটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যার পর খামেনির মরদেহ ইরানের সবচেয়ে পবিত্র ও শ্রদ্ধেয় ইমাম রেজা মাজারে দাফন করা হচ্ছে। শিয়া সম্প্রদায়ের ১২ জন ইমামের মধ্যে কেবল ইমাম রেজাই ইরানি ভূখণ্ডে সমাহিত আছেন।

খামেনির জানাজার নামাজে ইমামতি করছেন দেশটির ১০১ বছর বয়সী প্রবীণ আয়াতুল্লাহ হোসেইন নূরী হামেদানী।

খামেনির ব্যক্তিগত কার্যালয়ের প্রধান মোহাম্মদ মোহাম্মদী-গোলপায়গানী জানিয়েছেন, খামেনির শেষ ইচ্ছা অনুযায়ীই তাকে মাশহাদের এই পবিত্র স্থানে সমাহিত করা হচ্ছে। শতাব্দী প্রাচীন এই মাজারে এর আগে বেশ কয়েকজন ইরানি শাহ ছাড়াও ২০২৪ সালে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিকে দাফন করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিন নিহত হন খামেনি। ওই হামলায় খামেনির সঙ্গে তার নাতনি, মেয়ে, জামাতা এবং ছেলে মোজতবা খামেনির স্ত্রী জোহরা হাদ্দাদ আদেলও নিহত হন। তাদের সবাইকে আজ একই সঙ্গে দাফন করা হচ্ছে। এই হামলায় খামেনির উত্তরসূরি ও তার ছেলে মোজতবা খামেনিও গুরুতর আহত হয়েছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে এবং তিনি এখনো জনসমক্ষে আসেননি।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়