reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১ ঘণ্টা আগে

সংসদে ত্রাণমন্ত্রী

বন্যা-পাহাড়ধস: আশ্রয়কেন্দ্রে চার পার্বত্য জেলার ‘২৪ হাজার মানুষ’

বন্যা ও পাহাড়ধস থেকে সুরক্ষা পেতে পার্বত্য অঞ্চলের চার জেলার প্রায় ২৪ হাজার মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠার তথ্য দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি এ তথ্য জানান।

বন্যা-ভূমিধসে ৩০ জনের মৃত্যু হওয়ার তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, গত কয়েক দিনের বৃষ্টি এবং সমুদ্রে নিম্নচাপের কারণে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে পাহাড়ধসে কক্সবাজারে ১৯ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন, বান্দরবানে ৫ জন এবং রাঙামাটিতে ১ জন মারা গেছেন।

দুলু বলেন, চট্টগ্রামে ৪১টি, কক্সবাজারে ৬৪০টি, রাঙামাটিতে ২১টি, খাগড়াছড়িতে ১৩৫টি এবং বান্দরবানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে ৮ হাজার ৩৪০ জন, রাঙামাটিতে ১২ হাজার ৬ জন, খাগড়াছড়িতে ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং বান্দরবানে ২ হাজার ১৭৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

মন্ত্রী বলেন, গত ৭ জুলাই দুর্গত প্রতিটি জেলায় জিআর ক্যাশ হিসেবে ১০ লাখ টাকা করে এবং ২০০ মেট্রিক টন করে চাল পাঠানো হয়েছে।

নতুন করে চট্টগ্রামে ২৫ লাখ টাকা, কক্সবাজারে ২০ লাখ টাকা এবং রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ১০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

চালের অতিরিক্ত বরাদ্দের তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামে ২০০ মেট্রিক টন, কক্সবাজারে ২৫০ মেট্রিক টন এবং রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ২০০ মেট্রিক টন করে চাল দেওয়া হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে জানিয়ে দুলু বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, শিশুখাদ্য ও তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং নির্দেশনা দিচ্ছেন। মন্ত্রণালয়ের সচিব দুর্গত এলাকায় অবস্থান করছেন। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে দুর্গত জেলাগুলোর জন্য ২০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান ত্রাণমন্ত্রী।

দুলু বলেন, সংসদ সদস্যরা এলাকায় থাকলে এবং মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে প্রয়োজনে আরও জরুরি বরাদ্দ দেওয়া হবে।

প্রতিবছর পাহাড়ধসে প্রাণহানির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, পাহাড়ে ও পাহাড়ের নিচে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যারা বসবাস করছেন, তাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিত্যক্ত জমি, খাস জমি ও মন্ত্রণালয়ের জমি রয়েছে। সংসদ সদস্যরা স্থানীয়ভাবে সচেতনতা তৈরিতে সহায়তা করলে ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে নিরাপদ জায়গায় ঘর করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, “আমি আশা করি, ওই অঞ্চলের সংসদ সদস্যরা এ ব্যাপারে আমাদের সহযোগিতা করবেন। তাহলে ভবিষ্যতে পাহাড়ধসে মানুষের মৃত্যু রোধ করা যাবে।”

এদিকে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন সংসদে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিন পার্বত্য জেলায় ১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন চাল সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা প্রশাসনের অনুকূলে দুর্যোগকালীন সহায়তা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়