reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১ ঘণ্টা আগে

কঙ্গোতে ইবোলা পরিস্থিতির অবনতি: মৃতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়াল

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (DRC) ইবোলা ভাইরাসের প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৬০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১,৭৫৯ জনে পৌঁছেছে। বুধবার (৮ জুলাই) রাতে প্রকাশিত পরিস্থিতি প্রতিবেদনে নতুন করে ৫১ জন আক্রান্ত এবং ২০ জনের মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়েছে। খবর আল জাজিরার।

বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, ভাইরাসের সংক্রমণ এখন মূল প্রাদুর্ভাব অঞ্চলগুলো পেরিয়ে কিসাংগানির মতো বড় শহরেও ছড়িয়ে পড়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত সেখানে দুটি সম্ভাব্য কেস পরীক্ষা করা হচ্ছে, তবে এটি ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বঞ্চনার শিকার ফ্রন্টলাইন যোদ্ধারা: ইতুরি প্রদেশ, যা এই প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রবিন্দু, সেখানকার স্বাস্থ্যকর্মীরা এক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। গত ১৫ মে প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও, ফ্রন্টলাইনে কাজ করা ডাক্তার ও নার্সরা তাদের বেতন বা কোনো বোনাস পাননি।

তাদের অভিযোগ বেতনহীন সেবা: মাসের পর মাস ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার পরও পারিশ্রমিক না পাওয়া।

সুরক্ষার অভাব: ভাইরাসের সাথে লড়তে প্রয়োজনীয় পিপিই (PPE) ও চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকট।

অমানবিক আচরণ: সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জরুরি সাড়া প্রদানকারী দলের তরফ থেকে যথাযথ সম্মান ও সহায়তার অভাব।

ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায়: এই পরিস্থিতিতে ইবোলা চিকিৎসার জন্য 'বুন্দিবুগিও' (Bundibugyo) ভাইরাসের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরুর প্রক্রিয়াটি ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যদিও বুন্দিবুগিও স্ট্রেনটি অন্যান্য ইবোলা ভেরিয়েন্টের তুলনায় কিছুটা কম প্রাণঘাতী বলে বিবেচিত, কিন্তু এর কোনো অনুমোদিত টিকা না থাকায় সঠিক চিকিৎসা ও গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মবিরতি এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার পথকে রুদ্ধ করে দিচ্ছে।

সংকটের প্রেক্ষাপট: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) গত মে মাসে এই প্রাদুর্ভাবকে 'আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা' হিসেবে ঘোষণা করে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, মংবওয়ালু, রুয়ামপারা এবং বুনিয়ার মতো খনি এলাকাগুলোতে ভাইরাসটি শুরু থেকেই নীরবে ছড়িয়ে পড়ছিল। বর্তমানে সেই অব্যবস্থাপনা এবং বেতন নিয়ে সৃষ্ট অসন্তোষ পুরো জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইবোলা শুধু একটি ভাইরাস নয়; বরং একটি মানবিক বিপর্যয়। স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন প্রদান এবং তাদের সুরক্ষার নিশ্চয়তা না দিলে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়