reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১ ঘণ্টা আগে

শঙ্কা এডিবির

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতির মুখে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার আওতায় নতুন করে শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য উদ্বেগের নতুন কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) তাদের প্রতিবেদন ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক, জুলাই ২০২৬’-এ সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে বাংলাদেশের বাণিজ্য ব্যয়ের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও গভীর হতে পারে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে এডিবি।

এডিবির তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শুল্কনীতি বাস্তবায়ন করা হলে পুরো উন্নয়নশীল এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে গড় কার্যকর শুল্কহার ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৫ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়াবে।

এর প্রভাব হিসেবে কার্যকর শুল্কহার বাড়বে ১ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট। শুল্কহার বাড়বে ১ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট।

কেন এই পদক্ষেপ: যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) মূলত দুটি মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই নতুন শুল্ক আরোপের প্রক্রিয়া শুরু করেছে:

১. জোরপূর্বক শ্রম: বাংলাদেশসহ বেশ কিছু দেশকে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য রোধ ও তা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইউএসটিআর।

২. নীতিগত পর্যালোচনা: ৩০১ ধারার আওতায় পরিচালিত পর্যালোচনায় বাংলাদেশ, ভারত, চীন, জাপান ও যুক্তরাজ্যসহ ৬০টি দেশের অর্থনীতির ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

শুল্কের হার ও কাঠামোপ্রস্তাবিত নতুন কাঠামো অনুযায়ী, শুল্ক আরোপের হার নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশের শ্রম ও বাণিজ্য নীতির ওপর।

এডিবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদিও ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতি নিয়ে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফেরার ইঙ্গিত মিলেছিল, তবুও ইউএসটিআরের এই নতুন পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আবারও জটিল করে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শুল্ক কার্যকর হলে পোশাকসহ বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যগুলোর উৎপাদন ও বিপণন ব্যয় বাড়বে, যা বিশ্ববাজারে দেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। তবে শুল্কের এই নতুন কাঠামো ঠিক কবে থেকে এবং কতটুকু পরিধি নিয়ে কার্যকর হবে, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

ইউএসটিআরের তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফলই এখন নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত কতটা চাপের মুখে পড়বে। এডিবি মনে করছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাণিজ্য নীতির এই অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়