রংপুর ব্যুরো

  ১ ঘণ্টা আগে

রংপুরে ভিআইপি শাহাদত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সম্পতি দখলের অভিযোগ

রংপুরের ‘ভিআইপি শাহাদাত সিন্ডিকেটের’ বিরুদ্ধে নগরীর জামাল মার্কেটসহ ১২৩ শতক জাল দলিলের মাধ্যমে অবৈধভাবে দখল করার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে জমির প্রকৃত দাবিদার ওয়ারিশগন। অভিযোগে বলা হয় রেকর্ড রুমের মাধ্যমে জাল দলিল তৈরি করে ক্ষমতা এবং অর্থের প্রভাবে অবৈধ দখল করায় ১৫টি পরিবার এখন অন্যের আশ্রিত হয়ে জীবন যাপন করছেন।

সোমবার দুপুরে নগরীর জামাল মার্কেটে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ কেরেন ভুক্তভোগি পরিবারের পক্ষে মোহাম্মদ আব্দুল জলিল।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মতিয়ার রহমান স্বপন, খোরশেদা আখতার, মোসলেমা বেগম, আদুরি বেগম, মৌসুমি বেগম, মনিরা বেগম, নারগিছ আখতার, আব্দুল হালিম খোকন, ফেরদৌস, মাহবাবুর রহমান, নয়ন মিয়া, ফারুক, মুরাদ, শামীম, সোহেলসহ ওয়ারিশন উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল জলিল অভিযোগ করেন, নগরীর রাধাবল্লভ মৌজার জেল নং ৯২ এর সিএস খতিয়ান ৩২৫, ৩২৬, এস খতিয়ান ৩৬৪ এর ৫৪৮৪, ৫৪০১, ৫৪০২, ৫৪০৩, ৫৪৮৬, ৫৪৮৭, ৫৪০৩/৫৫৮৫, ৫৪৮৪/৫৫৩৪ দাগে ১ একর ৩৩ শতক জমির মালিক আমার নানী মৃত লতিফন নেছা খাতুন। দীর্ঘ ১০০ বছর যাবৎ আমরা আমাদের পুর্বপুরুষদের আমল থেকে এই পৈতৃক ভিটায় শান্তিতে বসবাস করে আসছিলাম। কিন্তু রংপুর মহানগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত আমাদের এই সম্পদের ওপর নজর পর ভিআইপি শাহাদাৎ হোসেন, দিলরুবা শাহাদাৎ, আব্দুর রশিদ চৌধুরী, আবু বক্কর সিদ্দিক, মোঃ জাহিদুল ইসলাম রাহাত, সৈয়দ মাহাবুবার রহমান বকুল, এস. এম ছাবের হোসেনসহ ২০ জনের একটি জালিয়াতি চক্রের।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল জলিল অভিযোগ করেন, তার দাদী লতিফন নেছা খাতুনের নাম ‘সৈয়দা লতিফন নেছা’ উল্লেখ করে নিজেদের পূর্বপুরুষ সাজিয়ে রেকর্ডরুমের যোগসাজশে ভূয়া ও জালকাগজপত্র তৈরি করেছে। এবং প্রভাব খাটিয়ে আমাদের জমির ১ একর ২৩ শতক পেশিশক্তি দিয়ে দখল করে সেখানে মার্কেট, বাড়ি ও অফিস করেছে। আমরা মৃত লতিফন নেছার অন্তত ১৫ জন অংশিদার এখন মার্কেটের পিছনে মাত্র ১০ শতক জমিতে গাদাগাদি করে অমানবিকভাবে বসবাস করছেন। এ বিষয়ে আমরা মামলা ভিআইপি শাহাদত ও তাদের লোকজনের প্রভাবের কারণে কোন সুরাহা পাচ্ছি না।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল জলিল জানান, আমার পৈত্রিক সম্পদ উদ্ধারের জন্য আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ভুমিমন্ত্রী, আইজিপি, দুদুক চেয়ারম্যান, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার, মহানগর পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক, জেলা ও দায়রা জজসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে আবেদন জানাই। কিন্তু তারা প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা কোন সুরাহা পাচ্ছি না। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে ১৫টি পরিবারের জীবন কাটছে অন্যের জমিতে আশ্রিত হয়ে, অনাহারে-অর্ধাহারে। শত শত কোটি টাকার সম্পদ থাকা সত্বেও আমাদের পরিবারের লোকজন কেউ কামারি করে, কেউ রিকশা চালিয়ে, কেউ ঠেলা চালিয়ে কেউ অন্যের বাসা বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ‘ প্রভাবশালী শাহাদত সিন্ডিকেট আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি ভূয়া দলিল মূলে এক্সিম ব্যাংক রংপুর শাখায় কোটি টাকা লোনের বিপরীতে বন্ধক রাখে। পরবর্তীতে তথাকথিত লোন পরিশোধের নিমিত্তে নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এই নিলামের নামে তারা একাধিকবার আমাদের পূর্বপুরুষদের স্মৃতিজড়িত বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করে। সর্বশেষ গত ২০২৪ ইং সালের ২৬ নভেম্বর তারিখে একজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এর নেতৃত্বে অন্তত ২০ জন পুলিশ এবং লাল ঝান্ডাবাহী কোর্ট লেবার নিয়ে এসে আমাদের দোকানপাট ভাঙচুর ও বাড়ির গাছপালা নিধন করা হয়। কিন্তু উচ্ছেদ অভিযানের একপর্যায়ে স্থানীয় সাংবাদিক এবং এলাকাবাসী যখন উচ্ছেদ অভিযানের বৈধ কোর্ট অর্ডার দেখতে চান, তখন ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয় কোনো অর্ডার দেখাতে না পেরে ভাঙচুর বন্ধ করেন এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে কাগজপত্র পুর্নযাচাইয়ের নির্দেশ দিয়ে চলে যান।

আমরা কেবলমাত্র আইনের শাসনের ওপর বিশ্বাস রেখে ইতিমধ্যে দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বিভাগীয় কমিশনার,রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকসহ দেশের বিভিন্ন দপ্তরে ডাকযোগে লিখিত আবেদন পাঠিয়েছি।

সংবাদ সম্মেলনে পৈত্রিক সম্পতি উদ্ধার এবং জড়িত প্রভাবশালী এই ভূমি জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুন ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানানো হয়।

এ ব্যপারে জানতে ভিআইপি শাহাদাত হোসেনের মোবাইলে (একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়