মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
মুরাদনগরে ৯৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক, পাঠদান ব্যাহত

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ২০৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯৪টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এর পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকের আরও ৯৩টি পদ শূন্য থাকায় উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ২০৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদ ২০৪টি হলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১১০ জন। কর্মরত এই শিক্ষকদের মধ্যেও আবার ৪১ জন স্থায়ী নন, তারা চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষকের কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন। ফলে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় একদিকে যেমন দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ ১ হাজার ২৪১টি। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ১ হাজার ১৪৮ জন এবং বাকি ৯৩টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এই তীব্র শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক বিদ্যালয়ে একসঙ্গে একাধিক শ্রেণির পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
উপজেলার একাধিক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তাদের প্রধান শিক্ষকের অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদানও করতে হয়। আবার প্রাতিষ্ঠানিক ও দাপ্তরিক কাজে উপজেলা শিক্ষা অফিস বা বিভিন্ন সভায় অংশ নিতে গেলে শ্রেণিকক্ষ ফাঁকা রেখে যেতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষকদের ওপরও অতিরিক্ত মানসিক ও কাজের চাপ সৃষ্টি হয়।
উপজেলার মটকিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিম বলেন, প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাকে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে হয়। বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংখ্যা কম থাকায় কোনো শিক্ষক ছুটিতে থাকলে বা দাপ্তরিক কাজে বাইরে গেলে পুরো পাঠদান কার্যক্রম ভেঙে পড়ে। শিক্ষার মান বজায় রাখতে দ্রুত এই শূন্য পদগুলোতে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া জরুরি বলে তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে স্থানীয় অভিভাবকরাও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিবেচনা করে দ্রুত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদগুলো পূরণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুরাদনগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলমগীর মোল্লা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় মাঠ পর্যায়ে কিছুটা বেগ পোহাতে হচ্ছে। মূলত এই নিয়োগ নিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে কিছু আইনি জটিলতা ও মামলা ছিল, যা ইতিমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে। শিক্ষক সংকট দ্রুত দূর করতে খুব শিগগিরই পদোন্নতি, নতুন নিয়োগ ও বদলি প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে বলে তিনি আশ্বাস দেন। সাময়িক এই সংকট কাটিয়ে উঠে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে উপজেলা শিক্ষা অফিস সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পিডিএস/এমএইউ









































