নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই হত্যা মামলার আসামি মামলাবাজ রমজানে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

রাজধানী তুরাগের শুক্রভাঙ্গার রমজান আলী বিরুদ্ধে মামলাবাজির একাধিক অভিযোগ উঠেছে, নিরীহ লোকদের নামে নানা চুতায় মামলা করাই তার একমাত্র কাজ। তুরাগের প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত আবুল হাসেম এর ক্যাডার বাহিনীর সদস্য পরবর্তীতে হাসিম চেয়ারম্যানের ছেলেদের সাথে সক্রিয় ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলো রমজান। ৫ আগষ্টের আগে আওয়ামী লীগের পক্ষে মিছিল মিটিং এবং উত্তরার খালপাড়ে উত্তরা ম্যাসাকারের সময় ছাত্র হত্যায় সরাসির জড়িত ছিলো রমজান। এজন্য ৫ আগস্ট পরবর্তী একাধিক হত্যা মামলার আসামী করা হয় রমজানকে। জুলাই হত্যার মামলার আসামী হয়েও বীরদর্পে এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং নানা অপকর্মের সাথে জড়িত রমজান। সেই সাথে এলাকার সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে মামলাবাজিসহ হেন কোন নোংরামি নাই যা সে করছে না। তার এসব অপকর্মের কারণে আগে একাধিকবার প্রতিবাদ প্রিেতরোধের মুখে পড়তে হয়েছে রমজানকে। বর্তমানেও একই ধরনের অপরাধের কারনে এলাকার সাধারণ মানুষ বেশ বিরক্ত তার উপর।
জানা গেছে, রমজান ছোট বেলা থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলো। লেখা পড়া বেশী না করলেও এলাকায় হাসেম চেয়ারম্যান পরিবারের ক্যাডার হিসেবে দাবড়িয়ে বেড়াত রমজান। জনশ্রুতি আছে হাসেম চেয়ারম্যানের ক্যাডার হিসেবে এলাকায় চুরি চিনতাই ও চাদাবাজির একচত্র নিয়ন্ত্রন করতো রমজান। সেই সাথে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে জাল দলিল ও ভুযা মামলা মোকদ্দমা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করে টাকা আয় করাই তার একমাত্র পেশা। বর্তমান সময়ে তুরাগ আওয়ামী লীগের যে কয়জন নেতা সরকারের বিরুদ্ধে মিছিল মিটিংয়ে লোকজন জড়ো করাসহ সরকারী বিরোধী নানা কার্যকলাপে জড়িত সে। অভিযোগ আছে, হাসেম চেয়ারম্যানের ছেলে মাহনগর উত্তর আওয়ামী লীগের সদস্য মহিবুল হাসানের নামে দৌড় এলাকায় একাধিক মিছিল করেছে রমজান। মুখে মাস্ক লাগিয়ে এসব মিছিলের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন রমজান।
তার বিষয়ে তুরাগের একজন ভোক্তভুগী জানায়, রমজানের দাদারা পৈত্রিক সূত্রে অনেক জায়গা জমির মালিক ছিলো, কিন্তু ৫০/৬০ বছর আগে তার দাদা ও তাদের ওয়ারিশরা এসব সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়েছেন। রমজান বা তাদের পূর্ব পুরুষরা জমি বিক্রি করে গেলেও এসব জমির নানা রকমের জাল দলিল সৃজন করে মামলা মোকদ্দমা লাগিয়ে টাকা দাবি করেন রমজান। চাহিদামতো টাকা পেলে মামলা উঠিয়ে নেয়, আবার যারা টাকা দেয় না, তাদের বিরুদ্ধে নানা হয়রানি করতে থাকে এই মামলাবাজ রমজান। প্রায় ২০/২৫ ক্রেতার সাথে এরকম মামলা করে একটি মামলাও জিততে পারেনি সে। তারপরও নিজের বউ ছেলে মেয়েকে দিয়ে হয়রানির মামলা থেমে নেই রমজানের। অনেক ডেভেলপার কোম্পানিও তার হয়রানি থেকে রেহায় পাচ্ছে না।
রমজানের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে খোজ খবর নিয়ে জানা গেছে, ২০০৭ সালে তুরাগ থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মারামারির মামলা হয়। সেই রমজান চার্জশিটে অভিযুক্ত আসামী। মামলা নং ০১/১১। একই বছরে ৩০ মার্চ আরেকটি মামলায় চার্জশিট ভুক্ত আসামী তিনি। এর বাইরে জুলাইয়ের ৪টি হত্যা মামলার আসামী তালিকায় রমজানের নাম আছে। মামলাগুলো উত্তরা পূর্ব ও পশ্চিম থানায় এজাহারভুক্ত। জুলাই হত্যা মামলায় আসামী হওয়ার পরও কেন তাকে আটক করা হচ্ছে না, এমন প্রশ্নের জবাবে উত্তরা জোনের একজন কর্মকর্তা জানান, আমরা খোজ নিয়ে দেখছি, তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।
অভিযোগের বিষয়ে রমজানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এখন আমার মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে আছি। এখন কথা বলতে পারবো না।









































