এএফএম মমতাজুর রহমান, আদমদীঘি (বগুড়া):
সান্তাহারে মরণনেশার ভয়াল গ্রাস: হাত বাড়ালেই মাদক, বিপন্ন যুবসমাজ

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে মাদকের বিস্তার। এখানে প্রায় হাত বাড়ালেই মিলছে নানা ধরনের মাদকদ্রব্য। প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও সেবনের ফলে মরণনেশায় জড়িয়ে পড়ছে কিশোর, তরুণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষ। মাদকাসক্তির এই ভয়াবহ বিস্তারের কারণে এলাকায় চুরি ও ছিনতাইসহ নানাবিধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিনিয়ত বাড়ছে, যা স্থানীয় সাধারণ মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সান্তাহার পৌর শহরে প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন বড় মাদক কারবারি বা 'ডিলার' সক্রিয় রয়েছেন। তারা বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে পুরো এলাকায় এক বিশাল মাদকের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পৌর শহরের অন্তত ২০টি স্পটে নিয়মিত মাদক বিক্রি হচ্ছে।
এর মধ্যে পৌর শহরের চা-বাগান, হরিজন কলোনি, নাটোর বাইপাসের শান্তিনগর, মালসন, তারাপুর, ইয়ার্ড কলোনি, বসুন্ধরা বটতলী, রথবাড়ি, মালগুদাম, হাটখোলা, হঠাৎপাড়া, বশিপুর বাইপাস, পৌঁওতা স্কুল মাঠ, তিয়রপাড়া মোড়, দৈনিক বাজার ও স্টেশন এলাকাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে প্রকাশ্যে ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ নানা মরণনেশা বিক্রি হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে বিভিন্ন কৌশলে ট্রেন ও বাসযোগে এসব মাদক সান্তাহারে নিয়ে আসা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, এসব মাদক কারবারে জড়িত অনেকেই পুলিশের তালিকাভুক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে। মাঝে মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে খুচরা বিক্রেতারা ধরা পড়লেও মূল হোতা বা রাঘববোয়ালরা সব সময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। এমনকি অনেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। অন্যদিকে, মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে সেবনকারীরা জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অপরাধে, যা সামাজিক নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল হক, সিদ্দিকুর রহমান, জাকিরুল ইসলাম ও রাজু আহমেদ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "হঠাৎ করেই পুরো পৌর এলাকায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছে। পুলিশের তালিকাভুক্ত চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যদি জরুরি ভিত্তিতে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে আমাদের যুবসমাজ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে।"
মাদক নির্মূলে প্রশাসনের জোরালো ভূমিকার কথা উল্লেখ করে আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, "মাদকের বিষয়ে কোনো ছাড় নেই। পুলিশ মাদক নিয়ন্ত্রণে সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে। মাদক কারবারি বা অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।"
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (আদমদীঘি সার্কেল) আসিফ হোসেন বলেন, "মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমরা 'জিরো টলারেন্স' নীতি গ্রহণ করেছি। সান্তাহারকে মাদকমুক্ত করতে এই তদারকি ও অভিযান আরও জোরদার করা হবে।"
পিডিএস/এমএইউ









































