সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় অপহৃত প্রবাসী উদ্ধার, মূলহোতা নারী গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় অপহৃত এক প্রবাসীকে উদ্ধারসহ এ ঘটনার মূলহোতা এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রবিবার গভীর রাতে সলঙ্গা থানার তেলকুপি পূর্বপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগী রাসেল ফকিরকে (৩০) উদ্ধার এবং মোছা. লাকী খাতুনকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রায়গঞ্জ-সলঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম খান জানান, বেলকুচি উপজেলার শোলাকুড়া গ্রামের রহিম ফকিরের ছেলে ও সৌদি প্রবাসী রাসেল ফকির গত ৪ জুলাই বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন সকালে রাসেলের মোবাইল ফোন থেকে তার স্ত্রী হাসি খাতুনের ফোনে এক নারী নিজেকে অপহরণকারীদের পক্ষের পরিচয় দিয়ে জানান, রাসেল তাদের জিম্মায় রয়েছে। এ সময় তাকে ফিরে পেতে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়, অন্যথায় তাকে হত্যা এবং তার আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।
রাসেলের পরিবার তাকে উদ্ধারের আশায় বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে দুই দফায় মোট ৫০ হাজার টাকা পাঠালেও অপহরণকারীরা রাসেলকে মুক্তি না দিয়ে আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। বিষয়টি জানার পর রাসেলের পরিবার থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করে। পরে গত রোববার রাতে ওঁৎপেতে থাকা পুলিশ মূলহোতাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তেলকুপি পূর্বপাড়ার একটি বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আরেক আসামি পালিয়ে গেলেও সেখান থেকে অপহৃত রাসেল ফকিরকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় লাকী খাতুনের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ে ব্যবহৃত সিমসহ একটি কালো রঙের মোবাইল ফোন ও নগদ ৫০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
উদ্ধারের পর রাসেল ফকির পুলিশকে জানান, বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে আলোচনার কথা বলে লাকী খাতুনকে গত ৪ জুলাই বিকেলে মোবাইল ফোনে ডেকে নেয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। তার অভিযোগ, রাতে লাকী খাতুন জোরপূর্বক আপত্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন এবং সেই সময় তার সহযোগী মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পরিবারের কাছে বিপুল অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম খান জানান, ঘটনার মূল আসামিকে গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। পলাতক অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এ ঘটনায় সলঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পিডিএস/এমএইউ









































