উড়তে থাকা সুইজারল্যান্ডের সামনে ছন্দোময় কলম্বিয়া

চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে ইউরোপের প্রতিনিধি সুইজারল্যান্ড। সমানে সমানে টক্কর দিয়ে একই পথে হাঁটছে লাতিন আমেরিকার লড়াকু দল কলম্বিয়াও। হাইভোল্টেজ এই দুদল এবার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে শেষ ষোলোর বাঁচা-মরার লড়াইয়ে। নকআউটের এই ম্যাচে যে হারবে, তারই ঘটবে বিদায়। দুদলই চেনা ছন্দে থাকায় ভ্যাংকুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে আজ রাত ২টায় (বাংলাদেশ সময়) ফুটবলপ্রেমীরা উপভোগ করতে যাচ্ছেন এক জমজমাট ফুটবল দ্বৈরথ।
রাউন্ড অব ৩২-এ সুইজারল্যান্ড ২-০ গোলে আলজেরিয়াকে হারিয়ে এবং কলম্বিয়া ১-০ গোলে ঘানাকে স্তব্ধ করে এই পর্বের টিকিট কেটেছে।
সুইসদের অদম্য ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প: বিশ্বকাপের শুরুটা অবশ্য সুইজারল্যান্ডের জন্য খুব একটা সুখকর ছিল না। উদ্বোধনী ম্যাচে কাতারের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে হতাশ করেছিল মুরাত ইয়াকিনের দল। তবে এরপরই যেন খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে তারা। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সহ-আয়োজক কানাডাকে ২-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ ‘বি’-এর চ্যাম্পিয়ন হয় সুইসরা।
কোচ ইয়াকিনের সাম্প্রতিক সাফল্যের বড় চাবিকাঠি বদলি খেলোয়াড়দের কার্যকর ভূমিকা। জোহান মানজাম্বি ও রুবেন ভার্গাস প্রতি ম্যাচেই দলের জয়ে অবদান রাখছেন। টুর্নামেন্ট যত এগোচ্ছে, ততই আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছে আলপাইন অঞ্চলের দেশটি।
কলম্বিয়ার বাজপাখি রক্ষণ: অন্যদিকে কলম্বিয়া বিশ্বকাপে এসেছে দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা নিয়ে। শেষ ছয় ম্যাচে পাঁচ জয় ও এক ড্র তাদের আত্মবিশ্বাসকে নিয়ে গেছে অন্য উচ্চতায়। গ্রুপ পর্বে উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারানোর পর পর্তুগালের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে গ্রুপ ‘কে’-এর শীর্ষ দল হিসেবে নকআউটে ওঠে নেস্তর লরেঞ্জোর দল।
কলম্বিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের জমাট রক্ষণভাগ। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ ছাড়া টানা তিন ম্যাচে কোনো গোল হজম করেনি তারা (ক্লিন শিট)। যদিও ঘানার বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে ছিটকে যান দলের প্রধান স্ট্রাইকার জন কর্দোবা। তবে তার বদলি নেমে বাজিমাত করা লুইস সুয়ারেজই আজ হয়তো শুরু থেকে একাদশে থাকবেন।
ধারালো আক্রমণ বনাম প্রাচীর রক্ষণ: দুশ্চিন্তায় দুই শিবিরই: ম্যাচটি মূলত হতে যাচ্ছে সুইজারল্যান্ডের গতিময় আক্রমণ বনাম কলম্বিয়ার শক্তিশালী রক্ষণের লড়াই। তবে সুইস শিবিরে রয়েছে ইনজুরির হানা। পেশির চোটের কারণে মিডফিল্ডার মিশেল এবিশার ও ডিফেন্ডার লুকা জাকেজের খেলা অনিশ্চিত। তারা শেষ পর্যন্ত মাঠে নামতে না পারলে মাঝমাঠের দায়িত্ব থাকবে গ্রানিত জাকা ও রেমো ফ্রয়লারের কাঁধে, আর রক্ষণে প্রাচীর তুলবেন মানুয়েল আকাঞ্জি ও নিকো এলভেদি।
দুদলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় কোনো পক্ষই পরিষ্কার ফেভারিট নয়। সুইজারল্যান্ড টানা চার জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে, আর কলম্বিয়া ভরসা করবে নিজেদের সংগঠিত রক্ষণ ও ধারাবাহিক ফর্মের ওপর। ফলে শেষ আটের টিকিটের লড়াইয়ে ভ্যাংকুভারে অপেক্ষা করছে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় এক দ্বৈরথ।
পিডিএস/এমএইউ









































