ববি প্রতিনিধি
ববি’র সাবেক ভিসি বদরুজ্জামানের অনিয়ম তদন্তে কমিটি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়ার দায়িত্ব পালনকালীন সময়ের যাবতীয় আর্থিক অনিয়ম, নিয়োগ ও পদোন্নতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য ড. মোহাম্মদ মামুন অর রশিদের নির্দেশক্রমে গত ৫ জুলাই ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্তের মুখে পড়া সাবেক ভিসি ড. বদরুজ্জামান ভূঁইয়া বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ এবং পরবর্তীতে উপাচার্য পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ছিলেন।
তদন্তের আওতায় যা থাকছে: বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে জানানো হয়, পূর্ববর্তী প্রশাসনের আমলে বিধি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন লঙ্ঘন করে করা সকল আর্থিক লেনদেন, নিয়োগ সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র এবং ক্যাম্পাসে বাস্তবায়িত সব ধরনের ভৌত কাঠামোগত কাজের নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হবে।
বর্তমান উপাচার্যের বক্তব্য: তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে বর্তমান উপাচার্য ড. মোহাম্মদ মামুন অর রশিদ বলেন, "তৎকালীন ভিসি বদরুজ্জামান ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে অসংখ্য সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এসেছে। আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো— বিগত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছিল এবং আন্দোলনরতদের নানামুখী হয়রানি ও অসহযোগিতা করা হয়েছিল।"
তিনি আরও জানান, তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তদন্ত কমিটির সদস্যবৃন্দ: গঠিত ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন- আহ্বায়ক: অধ্যাপক ড. মো: মুহসিন উদ্দীন (ইংরেজি বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়), সদস্য: ড. সরদার কায়সার আহমেদ (সহযোগী অধ্যাপক, আইন বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়), সদস্য-সচিব: জনাব মো: সোয়েব (সহকারী রেজিস্ট্রার, রেজিস্ট্রারের কার্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়)।
কমিটিকে তদন্ত শেষে নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
পিডিএস/এমএইউ









































