আহনাফ তিহামী, তিতাস (কুমিল্লা)
কুমিল্লায় জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ, নৌকায় চড়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

টানা তিন ঘণ্টার রেকর্ড ভাঙা ভারী বৃষ্টিতে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে তলিয়ে গেছে একাধিক এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনের সড়ক ও প্রাঙ্গণ। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়ে অনেক পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। অনেককে বাধ্য হয়ে নৌকায় চড়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেখা গেছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল পৌনে ১০টার দিকে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় গিয়ে এই নজিরবিহীন চিত্র দেখা যায়।
হাঁটু থেকে কোমর পানি, ভেজা পোশাকেই পরীক্ষা
পরীক্ষার্থীরা জানান, সকাল থেকেই প্রবল বর্ষণের কারণে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে যায়। কোনো উপায় না পেয়ে অনেকেই নোংরা পানি মাড়িয়ে এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় নৌকায় চড়ে কেন্দ্রে পৌঁছান। ছাতা বা রেইনকোট থাকলেও প্রবল বৃষ্টির কারণে বেশির ভাগ পরীক্ষার্থীকে ভেজা পোশাকেই পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে হয়েছে।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের পরীক্ষার্থী সামিয়া আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দেশজুড়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ চলছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা অন্তত স্থগিত রাখা উচিত ছিল। বৃষ্টিতে ভিজে, নোংরা পানি মাড়িয়ে অনেক কষ্টে পরীক্ষাকেন্দ্রে আসতে হয়েছে। এর মানসিক চাপ পরীক্ষার ওপর পড়ে।"
কেন্দ্রের পরিস্থিতি ও বোর্ডের নির্দেশনা
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল বাসার জানান, এই কেন্দ্রে আটটি কলেজের প্রায় ২ হাজার ১০০ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। মাঠ ও প্রাঙ্গণে পানি জমলেও সৌভাগ্যবশত পরীক্ষাকক্ষের ভেতরে পানি প্রবেশ করেনি। যেসব পরীক্ষার্থী দুর্যোগের কারণে দেরিতে কেন্দ্রে এসেছে, তাদের অতিরিক্ত সময় দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহসান পারভেজ সাংবাদিকদের বলেন, "বোর্ডের অধীন ছয় জেলায় ভারী বর্ষণের কারণে বিভিন্ন কেন্দ্রের সামনে ও সড়কে জলাবদ্ধতা তৈরি হলেও কোনো হলের ভেতরে পানি ঢোকেনি। যেসব পরীক্ষার্থী বিলম্বে কেন্দ্রে পৌঁছেছে, তাদের বিষয়টি সর্বোচ্চ মানবিকভাবে বিবেচনা করে সময় সমন্বয় করতে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রসচিবদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"
সিটি করপোরেশন ও আবহাওয়া অফিসের বক্তব্য
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, "অতি ভারী বৃষ্টির কারণে ড্রেন ও খালের পানি নিষ্কাশন ধীর হয়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে সড়কে পানি জমেছে। ভোর থেকেই সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা পানি অপসারণে কাজ করছেন। জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের জন্য সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।"
এদিকে কুমিল্লা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা ছৈয়দ আরিফুর রহমান জানান, সোমবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় কুমিল্লায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ১৩৮ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। দিনভর আরও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
পিডিএস/এমএইউ









































