মাসুম বিল্লাহ, শালিখা (মাগুরা)
টানা বৃষ্টিতে স্থবির শালিখা, চরম বিপাকে খেটে খাওয়া মানুষ

আষাঢ়ের অবিরাম বর্ষণে মাগুরার শালিখা উপজেলার জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। কখনো মুষলধারে ভারী বৃষ্টি, আবার কখনো দিনভর চলছে গুঁড়ি গুঁড়ি লঘু দাপট। থেমে থেমে চলা এই বৈরী আবহাওয়ায় উপজেলার দিনমজুর ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। নিত্যদিনের সংসার খরচ, সন্তানের পড়াশোনা আর বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তির টাকা পরিশোধের ভাবনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ।
বৃষ্টির মাঝেও জীবিকার সংগ্রাম
সরেজমিন উপজেলার শতখালী, আড়পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চরম দুর্ভোগের মধ্যেও এক শ্রেণির শ্রমজীবী মানুষ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। মাঠের কৃষিশ্রমিকদের কাজ সাময়িক বন্ধ থাকলেও চাকা থামেনি ভ্যানচালকদের। ভ্যানের ওপর পলিথিন টানিয়ে বাড়তি ভাড়ার আশায় তাঁরা ভিজতে ভিজতে ছুটছেন গন্তব্যে।
আড়পাড়া এলাকার ভ্যানচালক সোহাগ মিঝি তাঁর কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন, "মাথায় এনজিওর কিস্তির চাপ। ঘরে বসে থাকলে তো কেউ টাকা দেবে না, তাই বাধ্য হয়েই আয় করতে বের হয়েছি। তবে আজ যে পরিস্থিতি, তাতে কিস্তির পুরো টাকা জোগাড় করা সম্ভব হবে বলে মনে হচ্ছে না।"
একই বাজারের কলার দোকানি মাসুম বিশ্বাস বলেন, "বৃষ্টির কারণে বাজারে মানুষ নেই বললেই চলে, বেচাকেনাও খুব কম। ছেলেটার প্রাইভেটের খরচের টাকা জোগাড় করতেই দোকান খুলে বসেছি। তবে কলার যে অবস্থা, তাতে আজ সব বিক্রি হবে বলে মনে হয় না।"
পরীক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি
এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ সারতে সাধারণ মানুষকে ছাতা মাথায় দিয়ে কাদা-পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা চলমান থাকায় বাধ্য হয়েই তুমুল বৃষ্টির মধ্যে ভিজে তাদের পরীক্ষাকেন্দ্রে ছুটতে হচ্ছে।
চায়ের দোকানে অলস সময়
শ্রমজীবী মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ থাকলেও ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে স্থানীয় চায়ের দোকানগুলোতে। কর্মহীন হয়ে পড়া অনেকে অলস সময় কাটাতে ভিড় জমিয়েছেন দোকানে। সেখানে চা-বিড়ির আড্ডার পাশাপাশি দেশীয় সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে চলছে বিস্তর আলোচনা।
দোকানে আড্ডায় মজে থাকা কয়েকজন জানান, সারাদিন বৃষ্টি থাকায় ঘরে বসে থাকতে ভালো লাগছিল না। তাই সময় কাটাতে এবং পরিচিতদের সাথে গল্প করতে তাঁরা চায়ের দোকানে এসেছেন।
পিডিএস/এমএইউ









































