মজিবুর রহমান খান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
তীব্র শিক্ষক সংকটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মডেল গার্লস হাই স্কুল, ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ গভ. মডেল গার্লস হাই স্কুল এসএসসি পরীক্ষায় সাফল্য, বৃত্তি অর্জনসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে জেলার অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ধরে রেখেছে। তবে বিদ্যালয়টির এই গৌরবময় সাফল্যের ধারাবাহিকতা বর্তমানে তীব্র শিক্ষক সংকটের কারণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
অনুমোদিত পদের এক-তৃতীয়াংশই শূন্য
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১ হাজার ২৫৫ জন ছাত্রী অধ্যয়ন করছে, যাদের মোট ১৮টি শাখায় পাঠদান করা হয়। অথচ, বিদ্যালয়ের ৩৪টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২৩ জন শিক্ষক-কর্মচারী। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকসহ গুরুত্বপূর্ণ ১১টি পদই শূন্য পড়ে আছে।
শূন্য পদগুলোর মধ্যে রয়েছে—প্রধান শিক্ষক, বাংলা, ইংরেজি, ইসলাম শিক্ষা, ভৌত বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, চারু ও কারুকলা এবং সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের ২টি পদ। এছাড়া উচ্চমান সহকারী, নিম্নমান সহকারী ও এমএলএসএস (MLSS) পদগুলোও খালি রয়েছে। বিশেষ করে, সামাজিক বিজ্ঞানের দুটি পদই শূন্য থাকায় এই বিষয়ের পাঠদান সবচেয়ে বেশি ব্যাহত হচ্ছে।
এক জনবলেই চলছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তর
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জনবল কাঠামো মূলত ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির জন্য নির্ধারিত। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক স্তরের পাঠদানও একই জনবল দিয়ে চালানো হচ্ছে। ফলে একই শিক্ষক-কর্মচারীদের মাধ্যমিক ও প্রাথমিক—উভয় স্তরের দ্বিগুণ দায়িত্ব বহন করতে হচ্ছে।
মাধ্যমিক স্তরে জাতীয় আদর্শ শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১:৩০ হওয়ার কথা থাকলেও, এই বিদ্যালয়ে তা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১:৫৫-এ। এর ফলে এক-একজন শিক্ষককে স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণ শিক্ষার্থীর পাঠদান, খাতা মূল্যায়ন, পরীক্ষা পরিচালনা ও প্রশাসনিক কাজ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম
শিক্ষক সংকটের কারণে নিয়মিত ও বিষয়ভিত্তিক পাঠদান চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞ ছাড়া অন্য শিক্ষক দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে। এর ফলে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের বিশেষ যত্ন (রিমেডিয়াল ক্লাস), প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান, ধারাবাহিক মূল্যায়ন এবং এসএসসি পরীক্ষার্থীদের নিবিড় প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য থাকায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক নেতৃত্ব, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা নেমে এসেছে। কর্মচারী সংকটের কারণে দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, জেলার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় একটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে এবং ছাত্রীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষকসহ সব শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ বা পদায়ন প্রয়োজন।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সচেতন মহলের আশা, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে দ্রুত এই শূন্য পদগুলো পূরণের কার্যকর উদ্যোগ নেবে।
পিডিএস/এমএইউ









































