এস, এম, টিপু সুলতান
১টি লাল গোলাপ ও শফিক রেহমান

ফাগুনের আগুন ধরা শিমুল আর পলাশের ভিড়ে প্রকৃতি যখন নতুন রূপে সাজে ঠিক তখনই আমাদের দরজায় কড়া নাড়ে ‘বিশ্ব ভালোবাসা দিবস’। ক্যালেন্ডারের পাতায় নিছক একটি দিন কিন্তু অনুভবের গভীরতায় বিশাল।
ভালোবাসা কেবল প্রেমিক প্রেমিকার গন্ডিতেই সীমাবদ্ধ নয়। ভালোবাসা মানে বাবা-মার প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা, সন্তানের প্রতি স্নেহের পরশ, বন্ধুর প্রতি বন্ধুর আন্তরিকতা আর বিপদে মানুষের প্রতি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানবিক টান।
বর্তমান প্রযুক্তি নির্ভর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে আমাদের আবেগগুলো যেন ইমোজি আর টেক্সট মেসেজে বন্দী হয়ে পড়েছে। অথচ ভালোবাসার প্রকৃত নির্যাস লুকিয়ে থাকে সশরীরে উপস্থিতি আর প্রকৃত আন্তরিকতায়। একটি দামি উপহারের চেয়েও অনেক সময় প্রিয় হতে পারে প্রিয় মানুষের দেওয়া কিছুটা সময় ও ভরসা।
১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী এ দিবস পালিত হলেও আমাদের দেশে পত্রিকার বিশেষ সংখ্যা পাঠকের আড্ডায় সীমাবদ্ধ ছিল। পত্রিকার পাতা থেকে বাঙালির মনে প্রাণে, ড্রয়িং রুম পর্যন্ত প্রবেশ করিয়েছেন কোটি মানুষের হৃদয়ে থাকা জীবন্ত কিংবদন্তি সাংবাদিকতায় একুশে পদক প্রাপ্তির সন্ধিখানে থাকা যায় যায় দিনের সম্পাদক শফিক রেহমান।
শফিক রেহমানকে বাংলাদেশে ভালোবাসা দিবসের জনক বলা হয়। শুরুতে অনেক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও তার নিরন্তর প্রচেষ্টায় আজ এটি বাংলাদেশের অন্যতম বড় একটি দিবসে পরিণত হয়েছে।
দীর্ঘ সময় লন্ডনে থাকাকালীন সেখানে তিনি দেখেন ১৪ ফেব্রুয়ারি মানুষ একে অপরের কার্ড, ফুল ও উপহার দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। সেই সংস্কৃতি থেকেই বাংলাদেশ এই দিবসের সূচনায় অনুপ্রাণিত হন।
পশ্চিমা বিশ্বে সেন্ট ভেলেনটাইনস ডে হিসেবে পরিচিত হলেও শফিক রেহমান এটিকে বাঙালি পাঠকদের কাছে সহজবোধ্য করার জন্য ভালোবাসা দিবস নামকরণ করেন।
তিনি বিশ্বাস করতেন যে, ভালোবাসার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই শুধু উদযাপন করার জন্য একটি বিশেষ দিন প্রয়োজন। পরবর্তীতে বাংলাদেশে এসে ১৯৯৩ সালে তিনি তার সম্পাদিত জনপ্রিয় সাপ্তাহিক ‘যায়যায়দিন ‘পত্রিকার মাধ্যমে বাংলাদেশ এই দিবসের সূচনা করেন। শফিক রেহমান ভালোবাসা দিবসকে পরিচিত করতে ঢাকায় তার কার্যালয় এলাকার নামকরণ করেন ‘লাভ লেন’। সেখান থেকেই তিনি দেশে প্রথম ভ্যালেন্টাইন্স দিয়ে পালন শুরু করেন। শফিক রেহমান অনুধাবন করতেন বাঙালি জীবনে উৎসবের অভাব রয়েছে তাই পশ্চিমাদের অনুকরণ নয় বরং ভালোবাসার সার্বজনীন আবেদনকে ছড়িয়ে দিতেই তার এই আয়োজন। ৯০ এর দশকের তরুণ প্রজন্ম তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে গোলাপ হাতে রাস্তায় নামতে শুরু করে। জমে ওঠে ফুলের দোকান, গিফট কর্নার, পার্কগুলা রুপ নেয় মিলন মেলায়, দিনব্যাপী প্রচার পায় টেলিভিশনের পর্দায় এভাবেই রূপ নেয় জাতীয় উৎসবে।
"








































