সিরাজগঞ্জের বেগনাই বাজার হাটসেডটি এখন মরণফাঁদে পরিণত

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের প্রায় ১০টি গ্রামের প্রাণকেন্দ্র বেগনাই বাজার। যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে স্থানীয় গ্রামগুলোর কয়েক হাজার মানুষের নিত্যপণ্য কেনার একমাত্র ভরসা এই বাজার। কিন্তু বর্তমানে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বাজারটির একমাত্র হাটশেডটি ব্যবহারের সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়েছে, যার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারের গুরুত্বপূর্ণ এই হাটশেডটির উপরের টিনের চালাগুলো অত্যন্ত জরাজীর্ণ। মরিচা ধরে চালাগুলো ভেঙে নিচে ঝুলে পড়েছে। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে শেডের নিচে পানি জমছে এবং ওপর থেকে বৃষ্টির পানি সরাসরি ভেতরে পড়ছে। এতে সবজি, মাছ ও মুদি মালামাল নিয়ে বসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
বাজারে নিয়মিত ব্যবসায়ী আবুল জানান, আগে এই শেডে তাঁরা নিরাপদে মালামাল নিয়ে বসতে পারতেন। কিন্তু এখন টিনগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টি হলেই মালামাল নষ্ট হয়ে যায়। শেডের নিচে এখন কেউ বসতে সাহস পায় না, কারণ যেকোনো সময় জরাজীর্ণ কাঠামোটি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
গ্রামাঞ্চলের অভ্যন্তরীণ রাস্তাঘাটের বেহাল দশার কারণে স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকরা উপজেলা সদর বা বড় বাজারে গিয়ে পণ্য বিক্রির সুযোগ পান না। বেগনাই বাজারই তাঁদের একমাত্র ভরসা। শেডটি অকেজো হয়ে পড়ায় তাঁরা রোদ-বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নিচে পণ্য বেচাকেনা করতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, গত কয়েক বছর ধরে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বহুবার মৌখিক ও লিখিত আবেদন জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বৃষ্টির মৌসুম চলমান থাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ক্ষতির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। দ্রুত এই হাটশেডটি সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণ করা না হলে এই অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতি ও বাজার ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হবে।
স্থানীয় এলাকাবাসী এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ ব্যাপারে রায়গঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ রবিউল আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কাজটির টেন্ডার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে; শীঘ্রই জনগণের ভোগান্তি দূরীকরণে মূল কাজ শুরু করা হবে।
পিডিএস/এমএইউ








































