চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

  ১১ ঘণ্টা আগে

চৌদ্দগ্রামে বাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে হামলা ও ভাংচুর ॥ আহত ৪ : থানায় অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীপুর (মসজিদ পাড়া) এলাকায় বাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ হামলা, কুপিয়ে জখম, ভাঙচুর ও নির্মাণ সামগ্রী লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মো. ইমন হোসেন বাদি হয়ে চৌদ্দগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

রবিবার (১৯ জুলাই) বিকালে হামলা ও অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আরিফ হোছাইন। থানায় দায়েরকৃত অভিযুক্তরা হলেন, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার ০৭ নং ওয়ার্ড লক্ষীপুর (মসজিদ পাড়া) এলাকার মৃত আনা মিয়ার ছেলে সাইফুল (৩৭), খোরশেদ আলমের ছেলে সাগর, শাকিল, অহিদুর রহমানের ছেলে তারেক, ফরিদ মিয়ার ছেলে রায়হানসহ সহ অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ জন।

স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির সীমানা ও বাড়ি নির্মাণ নিয়ে ইমনের প্রতিবেশী সাইফুল, সাগর, শাকিলদের সঙ্গে বিরোধ ছিলো। ২০০৮ সালে ইমন বসত বাড়ির সীমানা নির্ধারণ করেন এবং ২০২৫ সালে ফাউন্ডেশন দিয়ে নতুন ভবনের কাজ শুরু করেন। তবে প্রতিবেশী সাইফুল শুরু থেকেই এতে বাঁধা দিয়েছিলো।

অভিযোগ অনুযায়ী আরো জানা যায় , গত ১৫ জুলাই বিকেলে নির্মাণকাজ চলাকালে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে দেন। এ সময় তারা হুমকি দেন, পুনরায় কাজ করলে প্রাণে হত্যা করা হবে। একই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ইমন, তাঁর স্ত্রী, ভাই ও ভাতিজা বাড়ির সামনে গেলে অভিযুক্তরা রামদা, চাপাতি, লোহার রড, হকিস্টিকসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালান। হামলায় ইমনের ভাইয়ের মাথায় চাপাতির কোপ দেওয়া হয়। তাঁকে বাঁচাতে গেলে অন্যদেরও এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। তাঁর ভাতিজার হাতে লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়। স্ত্রী আহতদের রক্ষা করতে গেলে তাকেও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। হামলার সময় স্ত্রীকে মারধর করে শ্লীলতাহানিরও শিকার হয়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হামলার সময় অভিযুক্তরা অভিযোগকারীর নির্মাণাধীন ভবনে ভাঙচুর চালিয়ে নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে যান এবং প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার ক্ষতি করেন। এছাড়াও ২ বসতঘরের জানালার সম্পূর্ণ থাই গ্লাস ভেঙে ফেলে।

অভিযুক্ত সাইফুল জানান, আমার ও ইমনদের বাড়ির ২য় তলায় নির্মাণ নিয়ে আগে থেকে দ্বন্দ্ব ছিলো। সম্প্রতি সে বিরোধ স্থানীয় ভাবে মিংমাসা হলেও তারা আবারো অন্যায় ভাবে ওয়াল নির্মাণ কাজ শুরু করলে আমি বাঁধা প্রদান করি। পরে ইমন তার শুশুর বাড়ি শ্রীপুর থেকে বহিরাগত নিয়ে এসে আমাদের উপর হামলা করলে আমার ভাগিনা সাগর গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মোঃ আরিফ হোছাইন বলেন, দু’পক্ষের বাড়ির ২য় তলার দেওয়াল নির্মাণকে কেন্দ্র করে সংর্ঘের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দু’পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। তদন্ত করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়