আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

১২০ মিনিটের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনাকে কার্যত কোনো সুযোগই দেয়নি স্পেন। নির্ধারিত সময়ে গোল না পেলেও অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে সোমবার বাংলাদেশ সময় ভোরে অনুষ্ঠিত ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়েছে স্পেন। ম্যাচের ১০৬ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় তোরেসের করা একমাত্র গোলেই ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলো স্প্যানিশরা।
যে স্পেনেই ফুটবলের ফুল ফুটিয়ে জগৎজয় করেছিলেন, সেই স্পেনের কাছেই মেসিকে হারাতে হল শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট। যে লা মাসিয়ায় বেড়ে ওঠা, ফুটবলকে নিজের করে নেওয়া, সেই লা মাসিয়ারই একজনে শেষ হলো টানা বিশ্বজয়ের স্বপ্ন।
এ জয়টা স্পেনের প্রাপ্যই ছিল। পুরো ম্যাচেই প্রাধান্য ছিল তাদের। শেষ মঞ্চে এসেই যেন খেই হারিয়ে ফেলে আর্জেন্টিনা। নিজেদের খোলসবন্দী করে রাখে শুরু থেকেই। আগের ম্যাচগুলোর মতো শেষ দিকে জ্বলে ওঠা হয়নি আজ। শেষ দিকে এসে এনসো ফের্নান্দেস লালকার্ড দেখে ফিরলে আর ঘুঁড়ে দাঁড়ানোর সামর্থ্যই ছিল না তাদের। এ ম্যাচে লিওনেল স্কালোনির পরিবর্তনগুলো নিয়েও প্রশ্ন উঠতেই পারে। তিন গোল করা লাউতারো মার্তিনেসকে মাঠেই নামাননি তিনি। রক্ষণের মূল দুই অস্ত্র রোমেরো ও লিসান্দ্রোর আগেভাগেই মাঠ ছাড়তে হয় চোটের কারণে। বদলী যারা নেমেছেন তারাও ব্যর্থ।
একার লড়াই চালিয়েছিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেস। আর্জেন্টিনার গোলমূখী ৯ শটের মধ্যে আটটি রুখে দিয়েছিলেন এই গোলরক্ষক। তবে দুই বদলী ফরোয়ার্ডের প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত এমির গড়া প্রাচীন ভেঙে স্পেন পৌঁছেছে জয়ের মঞ্চে। ১০৭ মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের কাটব্যাকে ফেরান তোরেসের জোড়ালো শট পোস্টে জড়ানোর পর, অবশ্য আর্জেন্টিনা জোড় চেষ্টা করেছে ম্যাচে ফেরার। তবে বদলী সিমিওনে ভালো জায়গায় বল পেয়েও বল পোস্টে রাখতে পারেননি।
শেষ হলো এক স্বপ্ন যাত্রার। বিশ্বকাপের মহামঞ্চেই থামলো লা এস্কালোনেতা গাড়ি। বাজে দিনটা এসে উপস্থিত হলো ফাইনালেই। এ ম্যাচটা এক পাশে রাখলে এই আর্জেন্টিনাকে নিয়ে গর্ব করার মতো আছে অনেক কিছুই। চল্লিশে পা রাখা মেসি গাড়িতে চড়ে ছুটতে ছুটতে ফাইনালে পৌঁছে যাওয়া বা কম কীসে। তাই হারের পরও মেসির চোখ জলে ভাসেনি। হতাশ হয়েছেন। তবে সব হারানোর বেদনা পেয়ে বসেনি।
চার বছর আগে কাতারের লুসাইলে পরম প্রার্থীত সোনালী শিরোপা হাতে তুলে নিয়েছিলেন। তা হাতছাড়া হলো নিউ জার্সিতে। তারপরও মেসির সেরাত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ কোথায়। এই বিশ্বকাপটাও যে নিজের মতোই রাঙাতে চেয়েছিলেন তিনি। শেষ মঞ্চে হয়তো সবকিছু নিজের মতো হলো না। তবে যে লা মাসিয়ায় বেড়ে ওঠা, সেই লা মাসিয়ার নবপ্রজন্মের কাছে এ হারেও হয়তো গর্বিত হবেন জাদুকর।








































