reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১১ ঘণ্টা আগে

পুলিশের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার, গ্রেপ্তার ২

পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, মানহানি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনাকারী দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আমার দেশ পত্রিকার আদলে পেজটির নাম দেন ‘আমার দেশ’।

শনিবার সকালে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসএমপির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ঢাকা থেকে সালাহ উদ্দিন ও সৈয়দ শাহীন মাহমুদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হওয়া দুজনের কাছ থেকে বাহিনীতে কর্মরত এডিসি ও ডিসি পদমর্যাদার কয়েকজন কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে অপপ্রচার চালানোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে এই ফেসবুক পেজের সঙ্গে বিদেশভিত্তিক একটি চাঁদাবাজ চক্রের যোগাযোগের বিষয়টিও নিশ্চিত হওয়ার দাবি করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় আগে সিলেটের শাহপরান (রহ.) থানায় একটি লিখিত অভিযোগ ও পরে একটি প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (পিআইবি) নথিভুক্ত করা হয়।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সিলেটের শাহপরান এলাকার বাসিন্দা ও ফটোসাংবাদিক মো. মহিদ হোসেন গত ১ জুলাই থেকে বিভিন্ন সময়ে ‘আমার দেশ’ ফেসবুক পেজ, একটি আইডি এবং ‘Surmar Dak Family’ নামের একটি গ্রুপ থেকে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা, মানহানিকর ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ করেন।

অভিযোগে বলা হয়, তার ছবি ব্যবহার করে ভিত্তিহীন পোস্ট, ভিডিও ও স্ট্যাটাস প্রকাশের পাশাপাশি বিভিন্ন সময় কনটেন্ট সরিয়ে দেওয়ার কথা বলে অর্থ দাবি করা হয়। অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে আরও অপপ্রচার ও সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে, ঘটনাটি কম্পিউটার-সংক্রান্ত অপরাধ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ১২০-বি, ৩৮৫ ও ৫০০/৫০৪ ধারা এবং সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৫-এর ২৫ ও ২৭ ধারা প্রাথমিকভাবে প্রযোজ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বাদী মোহিদ হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে এসব পেজ থেকে ভুয়া কন্টেন্ট তৈরি করে ছড়ানো হতো। বেশ কয়েক দফা তারা আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় তারা আমার নামে কয়েকটি পেজ থেকে ভুয়া তথ্য ছড়াতে থাকে। পরবর্তীতে আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শরণাপন্ন হই।’

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত এডিসি ও ডিসি পদমর্যাদার কয়েকজন কর্মকর্তাকে কেন্দ্র করে পরিচালিত অপপ্রচারের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বিদেশে অবস্থানরত একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে। এসব তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অপপ্রচার, চাঁদাবাজি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ অপরাধের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়