reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১ ঘণ্টা আগে

ঢাকায় দুই নারীর মৃত্যু: একজন কলহের বলি, অন্যজনকে নিয়ে রহস্য

রাজধানী ঢাকায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি এলাকা থেকে দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে খিলগাঁওয়ে এক কলেজছাত্রীকে পারিবারিক কলহের জেরে শ্বাসরোধে হত্যার পর তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বাংলামোটরের একটি জনশূন্য পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এক অজ্ঞাতপরিচয় নারীর ঝুলন্ত লাশ। একই শহরের দুই প্রান্তে দুই নারীর এই মর্মান্তিক ও আকস্মিক পরিণতি একদিকে যেমন তৈরি করেছে ক্ষোভ, অন্যদিকে জাগিয়েছে রহস্য।

খিলগাঁওয়ে দাম্পত্য কলহের নৃশংস পরিণতি: খিলগাঁওয়ের দক্ষিণ গোরান এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জেরে সানজিদা আক্তার ওরফে মারিয়া (১৮) নামে এক কলেজছাত্রীকে গলায় পাটের সুতলি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে দক্ষিণ গোরানের হাজি মসজিদের সামনের একটি বাসার নিচতলা থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্বপ্নবাজ এক শিক্ষার্থীর অকাল প্রস্থান: নিহত সানজিদা লালমাটিয়া মহিলা কলেজের ব্যবস্থাপনা (Management) বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনার প্রতি প্রবল আগ্রহ থেকে তিনি শুধু নিজের স্বপ্নই বুনছিলেন না, বরং পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করে সংসারে আর্থিক সহায়তাও করতেন। তার এই অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও সহপাঠীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত সানজিদা এবং তার স্বামী সাইফুল ইসলাম (২১) দুজনেরই গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার হাতকান্দা নয়াপাড়া গ্রামে।

মায়ের ফোনে মেলেনি সাড়া, অতঃপর মেঝেতে মিলল লাশ: নিহতের ভাই মো. চান মিয়া জানান, প্রায় এক বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের জেরে সাইফুলের সঙ্গে সানজিদার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তারা দক্ষিণ গোরানের ওই ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। সাইফুল পেশায় একজন ফুডপান্ডা কর্মী ছিলেন।

গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে সানজিদার মা অনেকবার তার মোবাইলে কল করলেও কোনো সাড়া পাচ্ছিলেন না। মেয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে একপর্যায়ে তিনি জামাতা সাইফুলকে ফোন করেন। তখন সাইফুল কোনো রকম সন্দেহ না জাগিয়ে উল্টো সানজিদার মাকে বলেন, তারা যেন বাসায় গিয়ে সানজিদাকে দেখে আসেন। সাইফুল ইসলামের এমন কথায় সন্দেহ হলে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ওই বাসায় ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তারা ঘরের মেঝেতে সানজিদাকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার গলায় আঘাতের স্পষ্ট দাগ দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেন তারা।

পুলিশের তৎপরতা ও মামলার বিবরণ: খবর পেয়ে খিলগাঁও থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) মর্গে পাঠায়। মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হারুন-অর-রশিদ জানান, গলায় পাটের সুতলি প্যাঁচানো অবস্থায় সানজিদার লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরপরই খিলগাঁও থানা-পুলিশ আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে দ্রুত অভিযান চালায় এবং অভিযুক্ত স্বামী সাইফুলকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।"

হত্যার কারণ: পুলিশ জানায়, বিয়ের পর থেকেই সাইফুলের মা-বাবাকে নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র দাম্পত্য কলহ চলছিল। এই পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আজ শনিবার নিহতের ভাই চান মিয়া বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় সাইফুলকে একমাত্র আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

বাংলামোটরের পরিত্যক্ত বাড়িতে ঝুলছিল নারীর মরদেহ: খিলগাঁওয়ের এই নৃশংস ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার সকালে রাজধানীর বাংলামোটর এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে এক পরিচয় না জানা নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ।

গাছের ডালে ঝুলন্ত লাশ: শনিবার সকালে কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত সাইফুল ইসলামের মালিকানাধীন একটি পরিত্যক্ত বাড়ির ভেতরে একটি জাম্বুরাগাছের ডালে গলায় রশি প্যাঁচানো অবস্থায় ওই নারীর মরদেহ ঝুলতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তারা পুলিশে খবর দিলে শাহবাগ থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে সকালবেলা মরদেহটি উদ্ধার করে।

পরিচয় শনাক্তে সিআইডির ফরেনসিক দল: প্রাথমিকভাবে পুলিশ কিংবা স্থানীয়রা কেউই ওই নারীর নাম বা পরিচয় শনাক্ত করতে পারেননি।

শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ওই নারীকে প্রায়ই এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখা যেত এবং তিনি মূলত একজন ভবঘুরে ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো একসময় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।"

তবে এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে পরিচয় শনাক্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি ফরেনসিক দল ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে শাহবাগ থানা পুলিশ।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়