reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১ ঘণ্টা আগে

উগ্রবাদ মোকাবিলায় সতর্ক পুলিশ, বিশেষ ইউনিট গঠনের উদ্যোগ 

রাজধানীতে ফেইথ কমব্যাট সিস্টেম (এফসিএস) নামে একটি মার্শাল আর্ট একাডেমির ছয় সদস্যকে উগ্রবাদে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মার্শাল আর্ট বা অন্য কোনো প্রশিক্ষণের আড়ালে উগ্রবাদী মতাদর্শ প্রচার কিংবা সদস্য সংগ্রহের চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একইসঙ্গে পরিবর্তিত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উগ্রবাদ দমনকারী একটি বিশেষ ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন এ ইউনিট উগ্রবাদ দমনের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ, আন্তঃদেশীয় (ট্রান্সন্যাশনাল) অপরাধ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনেও কাজ করবে।

এর আগে, গত ৫ জুলাই ভোরে রাজধানীর মিনি কক্সবাজার এলাকায় গোপন প্রশিক্ষণ চলাকালে একটি মার্শাল আর্ট একাডেমির ছয় সদস্যকে আটক করে পুলিশ। বর্তমানে তারা রিমান্ডে রয়েছেন। অন্যদিকে কক্সবাজার, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে কালেমা-খচিত সাদা পতাকা টাঙানোর ঘটনাও তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসব ঘটনার মাধ্যমে উগ্রবাদী মতাদর্শ প্রচার বা সংগঠিত হওয়ার কোনো চেষ্টা হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রশিক্ষণ কিংবা অন্য কোনো উপায়ে উগ্রবাদী কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ.এইচ.এম. শাহাদাত হোসাইন বলেন, পতাকা ব্যবহারের বিষয়ে নির্দিষ্ট আইন রয়েছে। সবাইকে সেই আইন মেনে চলতে হবে। পতাকা উত্তোলনের আড়ালে কেউ যদি ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করে বা এর ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, তাহলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং অপরাধের ধরন পরিবর্তনের কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকিও বদলেছে বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ করে ডিজিটাল মাধ্যমে উগ্রবাদ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

উগ্রবাদ দমনে কাজ করা এন্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটকে একীভূত করে স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট (এসএসইউ) গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

এআইজি জানান, এন্টি টেরোরিজম ইউনিটকে (এটিইউ) পুনর্গঠন করে স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট (এসএসইউ) করা হচ্ছে। একইভাবে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটকেও স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিটে রূপান্তর করা হবে।

তিনি বলেন, নতুন এই ইউনিটের কার্যক্রম শুধু উগ্রবাদ দমনে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম, সাইবার অপরাধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধসহ নতুন ধরনের বিশেষ অপরাধ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে ইউনিটগুলোকে নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে।

তবে অপরাধ ও সমাজবিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ইউনিটের নাম পরিবর্তন করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। তাদের মতে, উগ্রবাদ ও নতুন ধরনের অপরাধ কার্যকরভাবে মোকাবিলায় কর্মদক্ষতা, জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে এসব ইউনিটের একটি পরিচিতি তৈরি হয়েছে। একটি ইউনিট দীর্ঘদিন কাজ করার পর যখন মানুষের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা ও পরিচিতি পায়, তখন বারবার নাম পরিবর্তনের সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।

বর্তমান নিরাপত্তা বাস্তবতায় আরও সমন্বিত ও বৃহৎ পরিসরে কাজ করতেই এ ধরনের উদ্যোগ বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়