বেনাপোল প্রতিনিধি
বেনাপোলে মানবপাচারের শিকার ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসীদের জন্য ‘হাফওয়ে হোম’ উদ্বোধন

মানবপাচারের শিকার ব্যক্তি ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসীদের নিরাপদ আশ্রয়, পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে বেনাপোলে অন্তর্বর্তীকালীন আশ্রয়কেন্দ্র ‘হাফওয়ে হোম’ উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার যশোরের বেনাপোল সানরুফ হোটেলের কনফারেন্স রুমে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রাইটস যশোর। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর-ইউএনওডিসির কারিগরি সহযোগিতা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফজলে ওয়াহিদ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন রাইটস যশোরের কর্মসূচি পরিচালক প্রদীপ দত্ত। পরে রাইটস যশোরের উপ-পরিচালক এস এম আজহারুল ইসলাম বেনাপোলে নবপ্রতিষ্ঠিত অন্তর্বর্তীকালীন আশ্রয়কেন্দ্র ‘হাফওয়ে হোম’-এর কার্যক্রম ও ভুক্তভোগীদের জন্য প্রদেয় সেবাসমূহ তুলে ধরেন।
প্রধান বক্তা হিসেবে ইউএনওডিসির দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের ন্যাশনাল প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর তাসনিম বিনতা করিম প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পরে উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় মানবপাচার ও অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। পাশাপাশি পাচারের শিকার নারী, পুরুষ ও শিশুদের নিরাপদ আশ্রয়, মানসিক সহায়তা, আইনি পরামর্শ, স্বাস্থ্যসেবা এবং সমাজে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
তারা আরও বলেন, নবপ্রতিষ্ঠিত এ আশ্রয়কেন্দ্র মানবপাচারের শিকার ব্যক্তি ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আয়োজকরা জানান, দক্ষিণ এশিয়ায় মানবপাচার ও অভিবাসী পাচার প্রতিরোধে ইউএনওডিসি পরিচালিত তিন বছর মেয়াদি আঞ্চলিক প্রকল্পের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৪ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৭ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত।
এ প্রকল্পের আওতায় মানবপাচার প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীদের অধিকার সুরক্ষা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তঃদেশীয় সহযোগিতা জোরদার এবং পাচারকারীদের বিচারের আওতায় আনতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, শার্শা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জাহান-ই-গুলশান ববি, বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফ হোসেন, ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান, শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিমুল হক, বেনাপোল প্রেসক্লাবের সভাপতি মহসিন মিলন, সাধারণ সম্পাদক বকুল মাহবুব, বন্দর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক, বেনাপোল কোম্পানি সদর বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার মহসীন চৌধুরী প্রমুখ।









































