reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ৩ ঘণ্টা আগে

ইউরোপে নারী কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ, বাছাই শুরু আনসার-ভিডিপিতে

দালালনির্ভর ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনের পরিবর্তে সম্পূর্ণ ডিজিটাল, স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক প্রক্রিয়ায় ইউরোপের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি নারী কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।

এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ আনসার-ভিডিপি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে ঢাকা মহানগর আনসারের (ডিএমএ) ৩০০ জন শহর প্রতিরক্ষা দল (টিডিপি) নারী সদস্যকে মলদোভায় কর্মসংস্থানের জন্য বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

‎বুধবার (৮ জুলাই) আনসার-ভিডিপি সদর দপ্তরে প্রথম ধাপের এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

‎বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপপরিচালক মো. আশিকউজ্জামান বলেন, ঢাকা মহানগর আনসার উত্তর ও পূর্ব জোনের প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ১৩৯ জন টিডিপি নারী সদস্য অংশ নেন। আগামী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দ্বিতীয় ধাপে দক্ষিণ ও পশ্চিম জোনের আরও ১৬১ জন সদস্য একই প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পাঁচটি পৃথক বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি ধাপে অনিয়ম, তদবির কিংবা আর্থিক লেনদেনের সুযোগ রোধে কমিটিগুলো নিবিড়ভাবে দায়িত্ব পালন করছে। বাছাই কার্যক্রমের শুরুতে প্রার্থীরা স্বঘোষণা (সেলফ-ডিক্লারেশন) ফরমে স্বাক্ষর করেন। এরপর কাগজ-কলমের পরিবর্তে নিজ নিজ স্মার্টফোন ব্যবহার করে জিমেইল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে গুগল ফর্মে সরাসরি অনলাইন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। পরীক্ষা চলাকালে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক তদারকি করেন।

লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি প্রার্থীদের উচ্চতা, ওজনসহ শারীরিক সক্ষমতা যাচাই করা হয়। পরে পাঁচটি কমিটির সমন্বয়ে গঠিত জুরি বোর্ডের সামনে মৌখিক সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। পুরো প্রক্রিয়ার মূল্যায়ন একটি বিশেষায়িত সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে নম্বর বিশ্লেষণ করে মেধাতালিকা প্রস্তুত করায় মানবীয় হস্তক্ষেপ বা কারচুপির সুযোগ থাকছে না।

‎তিনি জানান, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ইউরোপের কর্মপরিবেশ, ভাষা, সংস্কৃতি, পেশাগত দক্ষতা এবং বাস্তব কর্মক্ষেত্রের চাহিদা অনুযায়ী তাদের প্রস্তুত করা হবে, যাতে তারা বিদেশে গিয়ে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। আমরা এমন একটি অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে দালালের কোনো ভূমিকা থাকবে না এবং সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। এজন্য বাছাইয়ের প্রতিটি ধাপ ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় করা হয়েছে। এতে স্বচ্ছতা যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনি যোগ্যরাই সুযোগ পাবেন।

তিনি বলেন, নির্বাচিতদের শুধু বিদেশে পাঠানোই আমাদের লক্ষ্য নয়। আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যাতে তারা ইউরোপের শ্রমবাজারে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ রাখতে পারেন। এই উদ্যোগ সফল হলে নিরাপদ অভিবাসন, নারী ক্ষমতায়ন এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এটি একটি কার্যকর মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়