মৃত্যুঞ্জয়ী সুরবাকেনের ছোঁয়ায় স্বপ্নের পথে নরওয়ে

নরওয়ে ফুটবল দলের কোচ স্তলে সুরবাকেনের হাত ধরে ২০২৬ বিশ্বকাপে এক রূপকথার জন্ম দিয়েছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি। মাঠের ফুটবলে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে দলটি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। এই সাফল্যের নেপথ্যের কারিগর স্তলে সুরবাকেন কেবল মাঠের কৌশলেই সফল নন বরং তার নিজের জীবনটাই এক অদম্য লড়াইয়ের উপাখ্যান।
২৫ বছর আগে ২০০১ সালে এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন সুরবাকেন। কোপেনহেগেনের হয়ে অনুশীলনের সময় মাঠে লুটিয়ে পড়ে হার্ট অ্যাটাক করেন তিনি। তার হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল দীর্ঘ সাত মিনিটের জন্য, চিকিৎসকদের ভাষায় তিনি তখন ‘ক্লিনিক্যালি ডেড’। অ্যাম্বুলেন্সে হৃদস্পন্দন ফিরে আসার পর ২৬ ঘণ্টা কোমায় ছিলেন তিনি। সেই সময় সুরবাকেনের মায়ের অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তিনি সন্তানের শেষকৃত্যের পরিকল্পনা করতে শুরু করেছিলেন। সেই মৃত্যু উপত্যকা থেকে ফিরে এসে ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টানলেও কোচ হিসেবে তিনি নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন।
নরওয়ের দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতে তাকে অনেক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। কাতার বিশ্বকাপ কিংবা ইউরো বাছাইয়ে ব্যর্থতার পর তার চাকরি নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছিল। তবে সেই ব্যর্থতা থেকেই নতুন করে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে ইতালিকে দুই দফা পরাজিত করে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দেয় সুরবাকেনের দল। এরপর মূল পর্বে ইরাক, সেনেগাল, আইভরি কোস্ট এবং পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে হারিয়ে সারা বিশ্বকে চমকে দিয়েছে নরওয়ে।
নিজের দলের সাফল্য নিয়ে বিনয়ী সুরবাকেন মনে করেন, এর পুরো কৃতিত্ব আর্লিং হলান্ড, মার্টিন ওদেগোরদের মতো তরুণ ফুটবলারদের। তিনি বিশ্বাস করেন, এই খেলোয়াড়রা কেবল নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসই নয়, বদলে দিয়েছে পুরো দেশের চিত্র।









































