যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ দেয়া হবে : খামেনি

একটি সাধারণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি যে আন্তর্জাতিক রাজনীতির মঞ্চে কতটা অর্থহীন হয়ে পড়তে পারে, তার জ্বলন্ত প্রমাণ দিল বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি। ওয়াশিংটনের সাথে হওয়া সাম্প্রতিক চুক্তিকে স্রেফ ‘মূল্যহীন কাগজের টুকরো’ আখ্যা দিয়ে তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে—আমেরিকাকে এবার এমন এক ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ দেওয়া হবে যা তারা কোনোদিন ভুলবে না। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে আসা এক কঠোর বিবৃতিতে এই হুঁশিয়ারি জারি করা হয়েছে।
ইসলামাবাদ চুক্তি সই হওয়ার পর ধারণা করা হয়েছিল দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা কিছুটা থিতিয়ে আসবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে ঠিক তার উল্টো। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের ওপর তাদের বিমান হামলার তীব্রতা নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে, যা আজ টানা অষ্টম দিনে পদার্পণ করল। হোয়াইট হাউজের সরাসরি নির্দেশনায় চালানো এই হামলায় ইরানের সেতু, রেললাইন ও পানি শোধনাগারের মতো বেসামরিক মেরুদণ্ড গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি মিনাব অঞ্চলের একটি স্কুলে মার্কিন বোমাবর্ষণে শতাধিক নিষ্পাপ শিশুর নির্মম মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আমেরিকার মূল নিশানা এখন ইরানের পরমাণু প্রকল্পগুলো।
এই পৈশাচিক আগ্রাসনের জবাবে ইরানও হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি। মার্কিন মিত্র কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোতে সফল পাল্টা আঘাত হেনেছে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র। যার ধাক্কায় পুরো কুয়েত জুড়ে এখন তীব্র বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে এবং দেশটির নাগরিকদের বিদ্যুৎ সাশ্রয় করার জরুরি আহ্বান জানানো হয়েছে।
পরিস্থিতি এখন এমন এক জায়গায় এসে ঠেকেছে যেখানে যেকোনো মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি স্পষ্ট ভাষায় ওয়াশিংটনকে বিমান হামলা বন্ধের আলটিমেটাম দিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আমেরিকা যদি এই বর্বরতা না থামায়, তবে ইরান আর কেবল ‘পাল্টা হামলার’ নীতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইরান সরাসরি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়বে, আর তেমনটা হলে মধ্যপ্রাচ্য বা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো দেশের রাজনৈতিক সীমানার মানচিত্র আর আস্ত থাকবে না।
পিডিএস/এমএইউ








































