নিজস্ব প্রতিবেদক
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ করার পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টায় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে এক ব্রিফিংয়ে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের কথা জানান স্পিকার।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বলেন, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছি। এ সময় শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন স্পিকার। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ৭৫ বছর বয়সি মো. সাহাবুদ্দিন। সাংবিধানিক নিয়মানুযায়ী ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তার মেয়াদ থাকার কথা ছিল।
দুদিন ধরেই রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন চলছিল। রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করছেন- এমন আলোচনার মধ্যে সফর সংক্ষিপ্ত করে থাইল্যান্ড থেকে শুক্রবার দুপুরে ঢাকায় ফেরেন স্পিকার। ১৯ জুলাই চিকিৎসার জন্য ব্যাংকক সফরে গিয়েছিলেন তিনি। সফরসূচি অনুযায়ী, ২৬ জুলাইয়ের জন্য ফিরতি টিকিট কাটা ছিল। কিন্তু সফরসূচি সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরতে স্পিকারকে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে অনুরোধ করা হয়। দেশে ফিরে সাংবাদিকদের সংবিধানের বিধান তুলে ধরে স্পিকার বলেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে তা স্পিকারের কাছে জমা দেবেন। ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করবে।
রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া কী হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যদি রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন, তাহলে স্পিকারের কাছে পদত্যাগ করবেন। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ একজন নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবেন। এ হলো সংবিধানের পজিশন।’ রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে পরবর্তী দায়িত্ব স্পিকারের ওপর বর্তাবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী এটা একটা ট্র্যাডিশন। দেশের সংবিধানে লেখা আছে, যখন রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন, তখন স্পিকার অ্যাক্টিং রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে জাতীয় সংসদ। সেটা তিন মাসের মধ্যে করতে হয়। এটা হলো সংবিধানের পজিশন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে তার স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে জমা দিতে হয়।’
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে লিখিত ও নিজ স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অপারগ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সেক্ষেত্রে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করলেও সংবিধানের ১২৩ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক।
সংসদে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির প্রটোকল : সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ায় জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) গাড়িবহরসহ প্রয়োজনীয় প্রটোকল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গতকাল দুপুরেই রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী বা এসএসএফের গাড়িবহর জাতীয় সংসদ ভবনে পৌঁছায় এবং স্পিকারের চলাচলের জন্য ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির নির্ধারিত ভিআইপি প্রটোকল প্রস্তুত করা হয়। সরেজমিন দেখা গেছে, বিকেল ৪টা ২৬ মিনিটে এসএসএফের প্রটোকলের গাড়ি ও রাষ্ট্রপতির ব্যবহারের জন্য গাড়ি সংসদে পৌঁছায়। সেখানে একটি গাড়ি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির ব্যবহারের জন্য। এসএসএফের প্রটোকলের দুটি গাড়ি দেখা গেছে।
"









































