প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ৪ ঘণ্টা আগে

ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক ককরোচদের

বিরোধীদলের একাত্মতায় বিপাকে মোদি সরকার

ভারতের দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে আজ শুক্রবার সারা ভারতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টারে সংগঠনটি ‘প্রতিটি জেলা, এক দিন, এক দাবি’ স্লোগানে দেশজুড়ে শিক্ষার্থী, ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

সিজেপি জানিয়েছে, প্রতিটি জেলায় শান্তিপূর্ণ সমাবেশ আয়োজন করে সাম্প্রতিক আন্দোলনে পুলিশি অভিযানের শিকার শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানানো হবে। অংশগ্রহণকারীদের নির্ধারিত স্থানে জড়ো হয়ে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো জনসমক্ষে পাঠ করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সংগঠনটি একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি), প্রচারসামগ্রী এবং জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়ার জন্য একটি স্মারকলিপির খসড়া প্রকাশ করেছে। স্থানীয় আয়োজকদের ছাত্র সংগঠন ও অন্য সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমতি নেওয়া এবং পুরো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিজেপির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীদের দাবিসংবলিত স্মারকলিপি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দিতে হবে।

বর্তমানে দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার দাবিতে সিজেপির আন্দোলন চলছে।

এদিকে আন্দোলন চলমান থাকলেও কেন্দ্রীয় সরকার আবারও সংগঠনটির সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে সরকার সংসদের ফ্লোর লিডারদের নিয়ে বৈঠক করতে পারে।

সরকার বিরোধীদলগুলোকে জানিয়েছে, পদত্যাগের মতো কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে তারা প্রস্তুত।

গতকাল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডাও পুনরায় বলেন, সরকার সিজেপির সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তিনি জানান, সংগঠনের প্রতিনিধিরা চাইলে তার সরকারি বাসভবন বা দপ্তরে গিয়ে বৈঠক করতে পারেন।

তবে সিজেপি জানিয়েছে, যেহেতু তাদের আন্দোলন যন্তর মন্তরে চলছে, তাই আলোচনাও সেখানেই বা এর আশপাশে হতে হবে। সরকারের প্রস্তাবিত বৈঠকের স্থান তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া সংসদে আলোচনায় যাবে না বিরোধীরা : ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত সংসদে কোনো আলোচনায় অংশ নেবে না বিরোধী শিবির। বৃহস্পতিবার কংগ্রেস সাংসদ কেসি ভেনুগোপাল এ ঘোষণা দিয়ে বলেন, এ সিদ্ধান্ত লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে জানানো হয়েছে। তার দাবি, আম আদমি পার্টি (এএপি) ও ডিএমকে ছাড়া বাকি সব বিরোধীদল এই অবস্থানের সঙ্গে একমত।

ভারতজুড়ে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও আন্দোলন চলার মধ্যেই বিরোধীদলগুলোর এই সিদ্ধান্ত সামনে এল। আন্দোলনকারীরা পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছেন।

অন্যদিকে সরকার জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে সংসদে আলোচনার জন্য প্রস্তুত। ভারতের সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজ্জু বলেন, ‘সরকার নিট ইস্যুতে আলোচনার জন্য প্রস্তুত।’

এদিকে বৃহস্পতিবার সংসদ প্রাঙ্গণে বিরোধী এমপিদের বিক্ষোভের পর বিজেপির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন বিরোধীদলগুলোর কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘কংগ্রেসসহ সমগ্র বিরোধী শিবির আলোচনা থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। কারণ তারা জানে, সংসদের কক্ষে আলোচনায় অংশ নিলেই দেশের মানুষ ও যুবসমাজের সামনে তাদের দ্বিমুখী অবস্থান পুরোপুরি প্রকাশ হয়ে যাবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সমগ্র বিরোধী শিবিরকে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি। আসুন, সংসদের কক্ষে নিটসহ শিক্ষার্থী ও যুবসমাজ-সংক্রান্ত প্রতিটি বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা হোক। এনডিএ সরকার প্রতিটি বিষয়ে সংলাপে অংশ নিতে এবং প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’

রাহুল গান্ধীকে লক্ষ্য করেও মন্তব্য করেন নীতিন নবীন। তিনি বলেন, ‘রাহুল গান্ধী ও বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক ইতিহাসই হলো আলোচনা এড়িয়ে চলার ইতিহাস। সে কারণেই তারা সংসদে বিতর্কের মুখোমুখি হওয়ার বদলে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।’

নিট (ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট) ভারতে মেডিকেল শিক্ষায় ভর্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ভর্তি পরীক্ষা। সাম্প্রতিক সময়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং পরীক্ষা পরিচালনায় অনিয়মের দাবিকে কেন্দ্র করে বিষয়টি জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সরকারের জবাবদিহি দাবি করছে। বিরোধীদলগুলো শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করলেও সরকার অভিযোগের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে আসছে। এই পরিস্থিতিতে নিট ইস্যু এখন সংসদের ভেতর ও বাইরে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক সংঘাতের অন্যতম প্রধান বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়