‎রংপুর ব্যুরো

  ১ ঘণ্টা আগে

রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে অভিসংশন করতে হবে: এটিএম আজহারুল ইসলাম

‎বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে সরকার আর কোনো ধরনের গড়িমসি করতে পারে না। জনগণের রায় উপেক্ষা করে রাষ্ট্র পরিচালনা করলে তার রাজনৈতিক পরিণতি সরকারকেই বহন করতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে জাতীয় সংসদের ভেতরে সাংবিধানিকভাবে এবং সংসদের বাইরে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

‎একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন (চুপ্পু)- কে অভিসংশনের দাবি জানিয়ে বলেন, দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকে জনগণের প্রত্যাশা ও সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা না হলে সেই পদও জবাবদিহির ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার বালুয়াভাটা এলাকায় নিজ বাসভবনে স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মতবিনিময় সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র, গণভোটের রায়, রাষ্ট্র পরিচালনা, বিরোধী রাজনৈতিক দলের ভূমিকা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম এবং জনগণের প্রত্যাশা নিয়ে দীর্ঘ বক্তব্য দেন তিনি।

‎এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, দেশের জনগণ ভোটের মাধ্যমে যেমন সরকার নির্বাচন করার অধিকার রাখে, তেমনি গণভোটের মাধ্যমে দেওয়া রায়ও রাষ্ট্রের জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের প্রত্যক্ষ মতামতকে উপেক্ষা করা কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের কাজ হতে পারে না। গণভোটে জনগণ যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, সেটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা সরকারের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

‎তিনি বলেন, জনগণের মতামতকে অগ্রাহ্য করে ক্ষমতায় টিকে থাকার সংস্কৃতি বাংলাদেশে বারবার রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করেছে। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সরকারকে জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। অন্যথায় জনগণের অধিকার আদায়ে সংসদের ভেতরে জোরালো ভূমিকা পালন করা হবে এবং সংসদের বাইরে গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে জনগণের দাবি মানতে বাধ্য করা হবে।

‎বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডে জনগণের মধ্যে আবারও হতাশা তৈরি হচ্ছে। তার অভিযোগ, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকার যে ধরনের রাজনৈতিক আচরণ, বিরোধী মত দমন এবং এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র পরিচালনার সংস্কৃতি অনুসরণ করেছিল, বিএনপিও ধীরে ধীরে একই পথে হাঁটছে।

‎তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসার আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পরিবর্তে যদি সরকারও অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি করে, তাহলে জনগণ অবশ্যই তার জবাব দেবে। গণতন্ত্রের মূল শক্তি জনগণ এবং জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন রাষ্ট্র পরিচালনা করা কখনো সম্ভব নয়।

‎রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন (চুপ্পু)-এর বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ একটি সাংবিধানিক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এই পদে থেকে নিরপেক্ষতা, সংবিধানের প্রতি আনুগত্য এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রপতি যদি সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন, তাহলে সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়ায় তার বিরুদ্ধে অভিসংশনের বিষয়টি বিবেচনায় আনা উচিত।

‎তিনি আরও বলেন, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। নির্বাচন, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের আস্থা অর্জনের মতো করে পরিচালিত করতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সমস্যার সমাধান করতে হবে।

‎জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, বর্তমানে দেশের মানুষ অর্থনৈতিক চাপ, বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি এবং নানা ধরনের সংকটের মধ্যে রয়েছে। জনগণ রাজনৈতিক সংঘাত নয়, একটি জবাবদিহিমূলক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা চায়। কিন্তু সরকার যদি জনগণের মূল সমস্যাগুলোর সমাধান না করে রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে, তাহলে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়বে।

‎তিনি বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি জাতীয় সংসদে জনগণের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, জনগণের ভোটের মূল্য রক্ষা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

‎এটিএম আজহারুল ইসলাম রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ক্ষমতা কোনো দলের স্থায়ী সম্পদ নয়। জনগণের সমর্থনই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে।

‎তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, একপক্ষীয় সিদ্ধান্ত এবং কর্তৃত্ববাদী মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে না।

‎মতবিনিময় সভায় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী, বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। সভার শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেন তিনি।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়