ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি

  ১ ঘণ্টা আগে

৫ টনের সেতুতে ৬০ টনের লোড, চরম ঝুঁকিতে ৩০ গ্রামের মানুষ

সানোড়া ইউনিয়নের ভালুম বেইলী সেতু। ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

৫ টনের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি জরাজীর্ণ বেইলি সেতু। অথচ তার ওপর দিয়ে দিন-রাত অবলীলায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ২০ থেকে ৬০ টন ওজনের রড, সিমেন্ট, ইট ও কয়লা বোঝাই শত শত ভারী ট্রাক! ঢাকার ধামরাই উপজেলার সানোড়া ইউনিয়নের ভালুম-ধানতারা আঞ্চলিক সড়কের 'ভালুম সেতু'টির বর্তমান চিত্র এটি। সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগ সেতুটিকে 'ঝুঁকিপূর্ণ' ঘোষণা করে একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়েই যেন তাদের দায়িত্ব শেষ করেছে। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় যেকোনো মুহূর্তে সেতুটি ধসে সলিল সমাধির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

জরাজীর্ণ বেইলি সেতু যেন এক মৃত্যুফাঁদ: ২৬ বছরের পুরোনো এই বেইলি সেতুটির অবস্থা এখন অত্যন্ত নাজুক। সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর বিভিন্ন অংশে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে, লোহার পাটাতন ক্ষয়ে গিয়ে তৈরি হয়েছে বিপজ্জনক ফাঁক। অধিকাংশ জায়গায় জং বা মরিচা ধরে লোহার কাঠামো ভেঙে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন আগেই একটি ভারী ট্রাক পার হওয়ার সময় পাটাতন ভেঙে বড় দুর্ঘটনা ঘটেছিল। সওজ কর্তৃপক্ষ তখন তড়িঘড়ি করে কোনো রকমে জোড়াতালি দিয়ে সেতুটি সচল করলেও মূল ঝুঁকি কমেনি বিন্দুমাত্র।

৩০ গ্রামের একমাত্র ভরসা, জিম্মি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা: বিকল্প কোনো যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় সোমবাগ, সূতিপাড়া, সানোড়া, কুশুরা, যাদবপুর ও বাইশাকান্দাসহ প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা এই জরাজীর্ণ সেতুটি। এর দক্ষিণ পাশেই রয়েছে ঐতিহ্যবাহী কালামপুর হাট এবং ভালুম আতাউর রহমান খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিদিন চরম আতঙ্ক বুকে নিয়ে এই সেতু পার হচ্ছে শত শত কোমলমতি শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারী। ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে প্রতিনিয়ত উদ্বেগের মধ্যে থাকছেন অভিভাবকরা।

তীব্র যানজট ও চালকদের ক্ষোভ: সেতুটি অত্যন্ত সরু হওয়ায় এর ওপর একটি বড় গাড়ি উঠলে কোনো মানুষের হেঁটে যাওয়ার জায়গাও থাকে না। ফলে সেতুর দুই প্রান্তে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ ও তীব্র যানজট।

ভীতি প্রকাশ করে সিএনজিচালক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, "এই সেতু দিয়ে যাওয়ার সময় প্রতিবার জান হাতে নিয়ে চলতে হয়। আমরা তালি মারা সেতু চাই না, এখানে দ্রুত নতুন পাকা সেতু দরকার।" স্থানীয় বাসিন্দা ইউছুব আলী ও সাজ্জাদ হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, "এখানে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে শত মানুষের প্রাণহানি হওয়ার পর কি প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে? আমরা অবিলম্বে নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।"

যা বলছে কর্তৃপক্ষ: যোগাযোগ করা হলে সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের নয়ারহাট শাখার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. নুরে আলম সিদ্দিক বিষয়ের সত্যতা স্বীকার করে জানান, “ভালুম বেইলি ব্রিজটি আসলেই ঝুঁকিপূর্ণ। এই ভোগান্তি দূর করতে এর পাশেই একটি স্থায়ী নতুন ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, এই ২০২৬ সালের শেষের দিকেই ব্রিজের টেন্ডার (দরপত্র) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মূল কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।”

তবে স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দাবি, আগামী কয়েক মাস টেন্ডারের অপেক্ষায় এই নড়বড়ে সেতুর ওপর ভারী যানবাহন চলতে দিলে যেকোনো দিন বড় বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে। তাই টেন্ডার হওয়ার আগ পর্যন্ত অবিলম্বে এখানে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়