সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

  ১ ঘণ্টা আগে

অল্প পুঁজিতে বেশি লাভ, উল্লাপাড়ায় বাড়ছে বাণিজ্যিক আখ চাষ

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

অল্প পুঁজিতে অধিক লাভজনক হওয়ায় সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় দিন দিন বাড়ছে বাণিজ্যিক আখ চাষ। অনুকূল আবহাওয়া, ভালো ফলন এবং বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় প্রতি বছরই এ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা। চলতি মৌসুমেও উপজেলায় আখের বাম্পার ফলন হওয়ায় চাষিদের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা গেছে।

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে আবাদের পরিমাণ: উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উল্লাপাড়ায় প্রায় ২৪ হেক্টর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ হেক্টর বেশি। উপজেলার বাঙ্গালা, সলঙ্গা ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি আখ চাষ হয়েছে। চিবিয়ে খাওয়ার সাধারণ আখের পাশাপাশি এবার ফিলিপাইনের উন্নত জাতের 'ব্ল্যাক সুগার কেইন' এবং চিনিকল ও গুড় তৈরির উপযোগী ঈশ্বরদী অঞ্চলের অনুমোদিত ১৬, ৪৫, ৪৬, ৪৭ ও 'রং বিলাস' জাতের আখ চাষ করেছেন কৃষকেরা।

কম খরচে দ্বিগুণ লাভের আশা: বাঙ্গালা ইউনিয়নের শিমলাদহ গ্রামের কৃষকেরা জানান, এবার আখের উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম হলেও ফলন হয়েছে চমৎকার। বাজারে ন্যায্যমূল্য বজায় থাকলে এবার রেকর্ড লাভের আশা করছেন তাঁরা। একই গ্রামের কৃষক সেলিম বলেন, "আখ চাষে রোগবালাইয়ের আক্রমণ কম হওয়ায় উৎপাদন ঝুঁকি অনেক কম। আমাদের লাভ দেখে এলাকার নতুন অনেক কৃষকও এবার আখ চাষে ঝুঁকছেন।"

সলঙ্গা ইউনিয়নের মানিকদিয়ার গ্রামের সফল চাষি মান্নান মিয়া জানান, তিনি মাঠ থেকেই প্রতি পিস আখ ৮-১০ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি করছেন। এবার অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি টাকার আখ বিক্রি করেছেন তিনি।

আরেক চাষি মজিদ বলেন, "আমি আড়াই বিঘা জমিতে আখের আবাদ করেছি। ইতোমধ্যে এক বিঘার আখ বিক্রি শেষ। প্রতি বিঘা (৩৩ শতক) জমি থেকে ফলনভেদে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার আখ বিক্রি করা সম্ভব। তবে আধুনিক ও উন্নত জাত চাষ করলে পাইকারি বাজারে এর চেয়েও বেশি দাম পাওয়া যায়।"

কৃষি বিভাগের তৎপরতা: উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমী বলেন, "অন্যান্য ফসলের তুলনায় আখের উৎপাদন খরচ কম, কিন্তু বাজারে চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় এটি এখন কৃষকদের জন্য অন্যতম লাভজনক আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে। কৃষকেরা মাঠ থেকেই সরাসরি পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে আখ বিক্রি করে ভালো মুনাফা পাচ্ছেন।"

তিনি আরও জানান, কৃষকদের লাভবান করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে নিয়মিত প্রয়োজনীয় পরামর্শ, উন্নত জাতের বীজ এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে, যা রোগবালাই প্রতিরোধ ও ফলন বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখছে।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়