ভোলা প্রতিনিধি

  ১ ঘণ্টা আগে

জোয়ারের পানিতে প্লাবিত মনপুরা, পানিবন্দী কয়েক হাজার মানুষ

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

ভোলার মনপুরা উপজেলার মনপুরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের একটি গুচ্ছগ্রাম মেঘনা নদীর জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে অন্তত ৬০টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ঘরবাড়ি, উঠান ও চলাচলের পথ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। প্রতিদিন দুই দফা জোয়ারের পানি ঢোকায় ঘরের আসবাবপত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছে, রান্নার চুলা তলিয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট।

পুরোনো বাঁধ কাটায় অরক্ষিত এলাকা: স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মেগা প্রকল্পের আওতায় নতুন বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ চলমান থাকায় পুরোনো বেড়িবাঁধটি কেটে ফেলা হয়েছে। কিন্তু নতুন বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ায় কোনো ধরনের সুরক্ষা ছাড়াই জোয়ারের পানি সরাসরি গুচ্ছগ্রামে প্রবেশ করছে। ফলে দিনে ও রাতে দুই দফা জোয়ারের পানিতে বসতঘর প্লাবিত হওয়ায় অনেক পরিবারকে টিনের চালের ওপর আশ্রয় নিতে হচ্ছে।

এদিকে বেড়িবাঁধবিহীন ৫ নম্বর কলাতলী ইউনিয়নের চরকলাতলী, কাজীরচর ও ঢালচর এলাকা ৫ থেকে ৭ ফুট জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের কোমরসমান পানি পেরিয়ে লঞ্চে ওঠানামা করতে হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও জরুরি মানবিক সহায়তার দাবি জানিয়েছে।

বিপদসীমার ওপরে মেঘনার পানি: পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, মেঘনা নদীতে জোয়ারের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভোলা পাউবো-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়া উদ্দিন আরিফ জানান, শুক্রবার বিকেলে মেঘনা নদীতে জোয়ারের উচ্চতা ছিল ৩ দশমিক ৩৬ মিটার, যেখানে বিপদসীমা ২ দশমিক ৯৫ মিটার। আজ শনি ও রবিবার পর্যন্ত জোয়ারের এই উচ্চতা অব্যাহত থাকতে পারে।

জোয়ারের কারণে মনপুরা ছাড়াও ভোলা সদর, দৌলতখান, তজুমদ্দিন, চরফ্যাশন ও লালমোহনের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সদর উপজেলার ইলিশা ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাট তলিয়ে যাওয়ায় ফেরিতে যানবাহন ওঠানামা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি আমন ধানের বীজতলা, আউশ ধান ও সবজিখেত তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। মাঠে পানি আটকে থাকায় গবাদিপশুর খাদ্যসংকটও তীব্র হয়েছে।

প্রশাসন ও পাউবোর আশ্বাস: পাউবোর ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা জানান, জোয়ারের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বেড়িবাঁধের ভেতর ও বাইরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রামনেওয়াজ এলাকার পুরোনো বেড়িবাঁধ সংস্কারের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু মুছা জানান, জোয়ারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০টি পরিবারের মাঝে ইতিমধ্যে খাদ্যসহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে স্থানীয়দের মতে, দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করা না হলে এই দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হবে।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়