reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১ ঘণ্টা আগে

বাজারে মৌসুমি ফলের ম-ম গন্ধ, দামেও স্বস্তি

পঞ্জিকার পাতা থেকে জ্যৈষ্ঠ বিদায় নিয়েছে বেশ আগেই, আষাঢ় পেরিয়ে শ্রাবণের আগমন ঘটেছে মাত্র। তবে বাঙালির রসনা তৃপ্তির ‘মধুমাস’ যেন এখনও ফুরিয়ে যায়নি। শেষলগ্নে এসে দেশের ফলের বাজারগুলোতে এখন রঙের মেলা, আর বাতাসে মৌসুমি ফলের ম-ম গন্ধ। একদিকে আমের শেষ পসরা, অন্যদিকে কাঁঠাল-আনারসের রাজত্ব। সবচেয়ে বড় সুসংবাদটি হলো—ভরপুর সরবরাহের কারণে দামের পারদ এখন অনেকটাই নিম্নমুখী, যা চড়া বাজারের এই সময়ে সাধারণ ক্রেতার পকেটে এনে দিয়েছে এক চিলতে স্বস্তির বাতাস।

এক নজরে বাজারের হালচাল: মৌসুমের শুরুতে যেসব ফলের দাম আমজনতার নাগালের বাইরে ছিল, তার সিংহভাগই এখন হাতের নাগালে।

আমের বাজার: রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁর আমে বাজার সয়লাব। হিমসাগর বা আম্রপালির মতো প্রিমিয়াম জাতের দাম কিছুটা বেশি হলেও ল্যাংড়া বা ফজলি মিলছে বেশ সাশ্রয়ী মূল্যে।

শেষ লটের লিচু: রসালো লিচুর দিন ফুরিয়ে এসেছে। তবে বাজারের কোণায় কোণায় এখনও শেষ দফার কিছু লিচু দেখা যাচ্ছে, যা কেনার জন্য ক্রেতাদের আগ্রহের কমতি নেই।

অন্য অনুষঙ্গ: টাঙ্গাইলের জলডুগি আনারস, নাটোরের তরমুজ আর কুচকুচে কালো জামের সরবরাহও নজরকাড়া।

ক্রেতা-বিক্রেতার সমীকরণ: স্বস্তি বনাম ব্যস্ততা:রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও নিউ মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, তীব্র গরমের ক্লান্তি ভুলতে মানুষ ভিড় করছেন ফলের দোকানে।

পরিবার নিয়ে আসা ক্রেতা নুরুল হক জানালেন, দাম কমায় এবার একসঙ্গে ৩-৪ পদের ফল কিনতে পারছি।

বিক্রেতা সবুজ আলীর মুখেও চওড়া হাসি, বৃষ্টি না হলে বেচাকেনা জমে ওঠে। ছুটির দিনগুলোতে দম ফেলার ফুসরত থাকে না। সরবরাহ এমন থাকলে মৌসুমের শেষ পর্যন্ত দাম আর বাড়বে না।

পুষ্টির মহোৎসব ও ভবিষ্যৎ ভাবনা: এই তীব্র গরমে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা দূর করতে দেশি ফলের কোনো বিকল্প নেই। আম ও কাঁঠালের ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে।

বাজারের এই স্বস্তিময় পরিস্থিতি ধরে রাখতে প্রয়োজন সরবরাহ চেইন ঠিক রাখা। ব্যবসায়ীরা যেমন চান স্থিতিশীল বাজার, তেমনই মাঠপর্যায়ের কৃষকদের চাওয়া উৎপাদিত ফলের ন্যায্যমূল্য। কৃষকের ঘামের সঠিক মূল্যায়ন হলে আগামী বছর দেশি ফলের উৎপাদন আরও বাড়বে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়