reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ২ ঘণ্টা আগে

নিলামে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ বল: মূল্য ছুঁতে পারে ১ কোটি ডলার!

ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচটি স্রেফ কোনো খেলা ছিল না; এটি ছিল এক মহাকাব্য। ফকল্যান্ডস যুদ্ধের রাজনৈতিক উত্তাপ মাথায় নিয়ে মাঠের লড়াইয়ে নেমেছিল দুই দল। আর সেই ম্যাচেরই দুটি অবিস্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে থাকা ঐতিহাসিক ফুটবলটি এবার উঠতে যাচ্ছে নিলামে। নিলামকারী প্রতিষ্ঠান ‘হেরিটেজ অকশনস’-এর ধারণা, চুপসে যাওয়া এই বলটির দাম উঠতে পারে রেকর্ড ১০ মিলিয়ন বা ১ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১১৭ কোটি টাকারও বেশি)!

জার্সির রেকর্ড ভাঙার অপেক্ষায় বল: ২০২২ সালের একটি নিলামে ওই ম্যাচে ম্যারাডোনার পরিহিত জার্সিটি বিক্রি হয়েছিল ৯২ লাখ ৮০ হাজার ডলারে, যা ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ফুটবল জার্সি। স্মারক সংগ্রাহকদের বাজারে সাম্প্রতিক সময়ে যে জোয়ার এসেছে, তাতে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত দুটি গোলের সাক্ষী এই বলটি জার্সির দামকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

হেরিটেজের প্রোডাকশন ম্যানেজার মাইক প্রোভেনজেল বলেন, আমার ২০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতায় এমন খুব কম জিনিসই দেখেছি, যা দপ্তরে আসার পর পুরো বিভাগের কাজ থমকে গিয়েছিল। এই বলটি নিশ্চিতভাবেই সেই তালিকার একটি।

এক ম্যাচের দুই রূপকথা: ১৯৮৬ সালের ২২ জুনের সেই ম্যাচে মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে চার মিনিটের ব্যবধানে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত দুটি গোল করেছিলেন ম্যারাডোনা।

হ্যান্ড অব গড (Hand of God): ম্যাচের দ্বিতীয় হাফের ষষ্ঠ মিনিটে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক পিটার শিলটনকে ফাঁকি দিয়ে শূন্যে ভেসে আসা বল হাত দিয়ে জালে ঠেলে দেন ম্যারাডোনা। রেফারি দেখতে না পাওয়ায় গোলটি বহাল থাকে। পরবর্তীতে ম্যারাডোনা নিজেই এটিকে ‘ঈশ্বরের হাতের গোল’ বলে আখ্যা দেন।

গোল অব দ্য সেঞ্চুরি (Goal of the Century): প্রথম গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে একক নৈপুণ্যে প্রায় ৬০ মিটার পথ পাড়ি দেন ম্যারাডোনা। একে একে ছয়জন ইংলিশ ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে ড্রিবলিংয়ে বোকা বানিয়ে বল জড়ান জালে। ফিফা পরবর্তীতে এটিকে শতাব্দীর সেরা গোল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

চুপসে যাওয়া বলের ‘অকৃত্রিম’ মহিমা: ম্যাচটি পরিচালনা করেছিলেন তিউনিসিয়ান রেফারি আলী বিন নাসের। নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচ শেষে বলটি নিজের জিম্মায় নেন তিনি। পরবর্তীতে কোনো এক ব্যক্তিগত সংগ্রাহক এটি কিনে নেন।

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, বলটি এখন পুরোপুরি চুপসে গেছে কেন? প্রোভেনজেল জানান, সময়ের সাথে সাথে প্রাকৃতিকভাবেই এর ভেতরের বাতাস বের হয়ে গেছে। তবে এর অকৃত্রিমতা (authenticity) বজায় রাখতেই এটি আর মেরামত করা হয়নি। মাত্র ১০০ ডলার খরচ করলেই হয়তো বলটি ঠিক করা যেত, কিন্তু সংগ্রাহকরা ইতিহাসের এই অবিকৃত রূপের কোনো পরিবর্তন চাননি। আধুনিক প্রযুক্তির ‘ফটো-ম্যাচিং’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এটিই সেই আসল বল যা দুই-দুবার ইংল্যান্ডের জাল স্পর্শ করেছিল।

আর্জেন্টিনার কোটি মানুষের আবেগ এবং বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর স্মারকটি এবার কার শোকেসে জায়গা করে নেয়, তা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে পুরো ক্রীড়া বিশ্ব।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়