আসছে মশা ‘শিকারী’ ড্রোন, নিধন হবে আকাশেই!

মশা মারতে কামান দাগার প্রবাদটি এতদিন শুনে এলেও, এবার বুঝি বাস্তবেই মশা মারতে ‘স্মার্ট অস্ত্র’ নিয়ে মাঠে নামছে প্রযুক্তি বিশ্ব। মশা তাড়াতে কয়েল, স্প্রে বা ধোঁয়া দেওয়ার দিন বুঝি ফুরোল! সিলিকন ভ্যালির স্টার্টআপ ‘টর্নিওল’ এমন এক মাইক্রো-ড্রোন উদ্ভাবন করেছে, যা উড়ন্ত অবস্থায় মশা শনাক্ত করে সেটিকে আকাশেই ধ্বংস করে ফেলতে সক্ষম।
কীভাবে কাজ করবে এই ‘মশা-ঘাতক’? এই ড্রোনের মূল শক্তি হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)। মাত্র ৪০ গ্রাম ওজনের এই ছোট্ট যন্ত্রগুলো মূলত তিনটি প্রযুক্তিকে কাজে লাগাচ্ছে:
আল্ট্রাসনিক পালস: ড্রোনগুলো ওড়ার সময় অনবরত শব্দতরঙ্গ পাঠাবে।
ডপলার সাউন্ড সিগনেচার: প্রতিটি পতঙ্গের ডানার ঝাপটানোর শব্দের ধরন আলাদা। ড্রোনটি সেই শব্দের প্রতিধ্বনি বিশ্লেষণ করে বুঝতে পারবে কোনটি মশা, আর কোনটি উপকারী কীটপতঙ্গ।
স্মার্ট ট্র্যাকিং: মশা শনাক্ত হওয়া মাত্রই এটি লক্ষ্য স্থির করে তাকে ধ্বংস করবে।
প্রযুক্তির পেছনের কারিগর: ওয়াই কম্বিনেটর-এর অর্থায়নে এই প্রকল্পের পেছনে কাজ করছেন প্রকৌশলী অ্যালেক্স তুসাঁ ও ক্লোভিস পিয়েদালু। গত ১৪ জুলাই অ্যালেক্স তুসাঁ সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে একটি ড্রোনকে সফলভাবে একটি মথকে লক্ষ্য করে আঘাত করতে দেখা যায়। যদিও মথ আর মশা এক নয়, তবে এই পরীক্ষাটি সফলভাবে প্রমাণ করেছে যে—আকাশে উড়ন্ত ক্ষুদ্র কীটপতঙ্গকেও নির্ভুলভাবে নিশানা করা সম্ভব।
বিপ্লবের পথে জনস্বাস্থ্য: এই প্রযুক্তির সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক দিক হলো এর কার্যকারিতা ও ব্যয়সংকোচন। উদ্যোক্তাদের দাবি:
মাত্র ১০টি ড্রোনের একটি দল ১ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে মশামুক্ত রাখতে যথেষ্ট।
এটি বাস্তবায়িত হলে মশাবাহিত রোগ (যেমন—ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়া) নিয়ন্ত্রণে বর্তমানের তুলনায় খরচ প্রায় ১০০ গুণ কমে আসতে পারে। বিষাক্ত রাসায়নিকের ছিটা ছাড়াই একটি শহর কীভাবে মশামুক্ত হতে পারে, টর্নিওল তারই স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
প্রযুক্তি যদি সত্যিই মানুষের কল্পনার সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যায়, তবে খুব দ্রুতই আমাদের মশারি বা কয়েলের ওপর নির্ভরতা কমতে শুরু করবে। মশা নিধনের এই ‘ড্রোন-বিপ্লব’ কি বিশ্বজুড়ে মশাবাহিত আতঙ্ক দূর করতে পারবে? উত্তর লুকিয়ে আছে সময় আর এই ক্ষুদ্র ড্রোনের আকাশজয়ের কৌশলে।









































