ব্যাটিং-বোলিং নৈপুণ্যে জিম্বাবুয়েকে হারাল বাংলাদেশ

প্রথম ম্যাচে হারের পর সিরিজে টিকে থাকতে জয় ছাড়া বিকল্প ছিল না বাংলাদেশ। তাই এদিন আর ভুল করেননি তাওহীদ হৃদয়রা। ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়ে নৈপুণ্যে দেখিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে লাল সবুজরা। তাতে সিরিজে ১-১ সমতায় ফিরল দল।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বুলাওয়েতে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে স্বাগতিকদের ৩৪ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে তাওহীদ হৃদয়ের দল। এদিন টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ১৮৬ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে জিম্বাবুয়ে ১৯.৪ ওভারে ১৫২ রানে অলআউট হয়ে যায়।
ব্যাট হাতে টাইগারদের বড় সংগ্রহের ভিত্তি গড়ে দেন দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম। উদ্বোধনী জুটিতে তারা যোগ করেন ১২০ রান, যা বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ এবং ওপেনিং জুটিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
তবে সাইফের ইনিংসটি ছিল ভাগ্যেরও গল্প। জিম্বাবুয়ের ফিল্ডাররা তার ক্যাচ ফেলেছেন পাঁচবার। ব্যক্তিগত ৮, ১৭, ১৯, ৩৭ ও ৪৬ রানে জীবন পান তিনি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৪৫ বলে ৮টি চার ও ১টি ছক্কায় ৫৫ রান করেন ডানহাতি এই ওপেনার। ইনিংসের ১৫তম ওভারে সিকান্দার রাজার বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি।
এর পরের ওভারেই সাজঘরে ফেরেন তানজিদ। বাঁহাতি এই ব্যাটার ৪৪ বলে ৬টি চার ও ২টি ছক্কায় ৫৮ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন। তিনিও একাধিকবার জীবন পেয়েছিলেন।
দুই ওপেনারের বিদায়ের পর হঠাৎই ব্যাটিং ধস নামে বাংলাদেশের। তাওহীদ হৃদয় ৫ বলে ৬, পারভেজ হোসেন ইমন ২ বলে ১ এবং নুরুল হাসান ২ বলে ৪ রান করে দ্রুত ফিরলে বড় সংগ্রহের আশা কিছুটা ম্লান হয়ে যায়।
তবে শেষ ওভারে ম্যাচের চিত্রই বদলে দেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ব্র্যাড ইভান্সকে টানা চারটি বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে মাত্র ১০ বলে ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। অন্য প্রান্তে ইয়াসির আলী ১২ বলে ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৭ রানে অপরাজিত থেকে দারুণ সঙ্গ দেন। তাদের ঝোড়ো ব্যাটিংয়েই বাংলাদেশ পৌঁছে যায় ১৮৬ রানের লড়াকু সংগ্রহে।
জিম্বাবুয়ের হয়ে রিচার্ড এনগারাভা ২৩ রানে ২টি উইকেট নেন। সিকান্দার রাজা একটি উইকেট শিকার করেন। তবে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ছিলেন ব্র্যাড ইভান্স। ৪ ওভারে ৬৫ রান দিয়ে ২ উইকেট নিলেও শেষ ওভারে একাই হজম করেন ২৭ রান।
১৮৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। ৮০ রানের মধ্যে ৬ এবং ১০৯ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকে যায় স্বাগতিকরা।
তবে শেষদিকে ব্র্যাড ইভান্স ও রিচার্ড এনগারাভার নবম উইকেট জুটিতে আসে ৪০ রান, যা কিছুটা শঙ্কা তৈরি করেছিল বাংলাদেশের শিবিরে। কিন্তু দলীয় ১৪৯ রানে ইভান্স আউট হলে শেষ প্রতিরোধও ভেঙে যায়। শেষ পর্যন্ত ১৯.২ ওভারে ১৫২ রানেই গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস।
স্বাগতিকদের হয়ে ১৯ বলে সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন রায়ান বার্ল। সিকান্দার রাজা ১২ বলে ২৮, ব্র্যাড ইভান্স ১৪ বলে ২৫, মিল্টন শুম্বা ২০ বলে ১৯ এবং রিচার্ড এনগারাভা ১৭ বলে অপরাজিত ১৫ রান করেন।
বল হাতে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক রিশাদ হোসেন। ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নেন এই লেগস্পিনার। শেখ মেহেদী হাসান ২৪ রানে নেন ৩ উইকেট। নাহিদ রানা ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন একটি করে উইকেট শিকার করেন।
প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৩২ রানের হার এবং এর আগে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ হারার হতাশা কাটিয়ে এই জয় বাংলাদেশের জন্য বড় স্বস্তির। তিন ম্যাচের সিরিজ এখন ১-১ সমতায়। শেষ ম্যাচ জিতলে অন্তত একটি সিরিজ জিতে ঘরে ফিরতে পারবে লাল সবুজরা।









































