reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১ ঘণ্টা আগে

বিদায়ের মঞ্চে মেসি, উত্থানের ক্ষণে ইয়ামাল

ফাইল ছবি

বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে একে একে সব বড় তারকা ছিটকে গেলেও নিজের মহিমায় উজ্জ্বল হয়ে আছেন লিওনেল মেসি। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা যে অতিমানবীয় ফুটবল উপহার দিয়েছেন, তা যেন রূপকথাকেও হার মানায়। তার জাদুকরি পায়ের স্পর্শে ভর করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছে আলবিসেলেস্তেরা। সেমিফাইনালে মেসির মাত্র সাত মিনিটের সেই অবিস্মরণীয় 'মাস্টারক্লাস' পারফরম্যান্স আর্জেন্টিনাকে পৌঁছে দিয়েছে ফাইনালে। আগামীকাল ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের পাওয়ার হাউস স্পেন।

ইতিহাসের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে এটি মেসির দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল। ক্যারিয়ারের শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়ে যখন ফুটবল ইতিহাসের সব অর্জন নিজের ঝুলিতে পুরেছেন মেসি, ঠিক তখনই ফুটবল বিশ্বে আবির্ভাব ঘটেছে এক নতুন বিস্ময়ের—লামিন ইয়ামাল। সদ্য ইউরো জয়ী ১৯ বছর বয়সী এই তরুণ তার অভিষেক বিশ্বকাপেই খেলছেন ফাইনাল।

এই ফাইনালটি ফুটবল রোমান্টিকদের ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ১৯ বছর আগের এক ফ্রেমে। ২০০৭ সালে ইউনিসেফের এক দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য ২০ বছর বয়সী মেসির বাথটাবে গোসল করানো সেই পাঁচ মাসের শিশুটিই আজকের ইয়ামাল! সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সেই ফ্রেমের দুই চরিত্রই এখন একে অপরের মুখোমুখি, যা এই ফাইনালের আকর্ষণকে বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ।

পরিসংখ্যান ও শক্তির লড়াই

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া মেসি এবারের আসরে গোল ও অ্যাসিস্ট—উভয় তালিকাতেই শীর্ষে। টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার করা মোট ১৯টি গোলের মধ্যে ৮টিই এসেছে মেসির পা থেকে, পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৪টি গোল।

তবে শিরোপা ধরে রাখার এই মিশন আর্জেন্টিনার জন্য মোটেও সহজ হবে না। প্রতিপক্ষ স্পেন টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই ট্যাকটিক্যালি দুর্দান্ত এবং নিখুঁত ফুটবল খেলছে। বিশেষ করে স্প্যানিশদের রক্ষণভাগ এবারের আসরে প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়েছে; সাত ম্যাচে তারা গোল হজম করেছে মাত্র ১টি, যার মধ্যে ৬টি ম্যাচই ছিল ক্লিন শিট। সেমিফাইনালে গতিময় ফ্রান্সকে যেভাবে তারা বোতলবন্দী করেছে, তা স্পেনের দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনাকে প্রবল করে তুলেছে।

রদ্রি ও ওলমোদের নিয়ে গড়া বিশ্বমানের মিডফিল্ডের পাশাপাশি স্পেনের গোলপোস্টের নিচে উনাই সিমোন যেন এক দুর্ভেদ্য দেয়াল। আক্রমণভাগে ওয়ারজাবাল ও বায়েনার সাথে তরুণ ইয়ামালও হয়ে উঠেছেন স্পেনের অন্যতম প্রধান অস্ত্র। শুরুতে পুরো ম্যাচ খেলার সুযোগ না পেলেও, সময়ের সাথে সাথে দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তারকা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন ইয়ামাল।

ফুটবল বিশ্ব এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে এক মহাকাব্যিক সমাপ্তির—মেসির শেষটা কি সোনালী ট্রফিতে রাঙানো হবে, নাকি ইয়ামালের হাত ধরে স্পেনের নতুন এক ফুটবল সাম্রাজ্যের সূচনা ঘটবে?

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়