মো. লালমিয়া, তারাগঞ্জ (রংপুর)
সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু পানি: তারাগঞ্জ বাজার সড়কে চরম ভোগান্তি, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় সামান্য বৃষ্টিতেই গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কে হাঁটু পানি জমে তৈরি হচ্ছে তীব্র জলাবদ্ধতা। বছরের পর বছর ধরে তারাগঞ্জ বাজারের এই সড়কটি বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকলেও তা সংস্কারে কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো পথচারী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানান, তারাগঞ্জ কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দিরের সামন থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জয়নাল আবেদীনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটিতে অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে নদীর রূপ নেয়।
ভুক্তভোগী বাসিন্দা রেজাউল করিম আক্ষেপ করে বলেন, "আমরা এখানকার স্থানীয়রা খুব কষ্টে চলাফেরা করছি। কয়েক বছর আগে রাস্তার পাশে একটি দায়সারা ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই ড্রেনটি অকেজো হয়ে পড়ে। ফলে পানি নিষ্কাশন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। আমরা দ্রুত এখানে একটি স্থায়ী ও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছি।"
গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। তারাগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী আকরাম হোসেন বলেন, "আমার বাড়ি ঘনিরামপুর এলাকায়। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে বাজারে যাতায়াত করতে হয়। রিকশা বা ভ্যানে যাওয়ার সময় নোংরা কাঁদা-পানি ছিটকে গায়ের কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে এই নরকযন্ত্রণা চললেও দেখার কেউ নেই।"
কাছাকাছি এস কে মডেল স্কুলের শিক্ষার্থী এমামুল কারিম তাহসান জানায়, "সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় হাঁটু পানি জমে থাকে। স্কুলে যাওয়ার সময় আমাদের ইউনিফর্ম ও বই-খাতা কাঁদা পানিতে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়।"
রাস্তাটির এই দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তারাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী নাফিউর রহমান বলেন, "আমি এই কর্মস্থলে নতুন যোগদান করেছি। ওই সড়কের জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করব।"
ভুক্তিভোগী এলাকাবাসীর দাবি, নতুন কর্মকর্তা আসার অজুহাতে যেন কাজ ঝুলে না থাকে। বর্ষার এই মৌসুমে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই যেন রাস্তাটি সংস্কার ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়।
পিডিএস/এমএইউ









































