বাবুল আহমেদ, মানিকগঞ্জ
সাটুরিয়ার কমলপুর-কৈজুরী সড়কের বেহাল দশা, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার কমলপুর থেকে কৈজুরী পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার প্রধান সড়কের জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় কয়েক হাজার বাসিন্দা। সামান্য বৃষ্টিতেই কাঁচা ও ভাঙাচোরা এ সড়কের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয় বড় বড় গর্ত, যার ফলে জন্ম নেয় কাদা ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা। এতে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে যাতায়াতও মারাত্মক রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, প্রবীণ, নারী, অসুস্থ রোগী এবং শ্রমজীবী মানুষদের দৈনন্দিন চলাচলে সবচেয়ে বেশি বেগ পেতে হচ্ছে।
সরেজমিন চিত্র: শুক্রবার (২৪ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কমলপুর-কৈজুরী সড়কের বিভিন্ন স্থানে বিশাল বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে রাস্তার একাধিক অংশের মাটি ধসে গিয়ে পরিধি সংকুচিত হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও পুরো রাস্তা হাঁটু কাদায় ঢেকে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে স্থানীয়দের। এলাকাবাসী জানান, প্রতিদিন মোটরসাইকেল ও ভ্যান গাড়ি কাদায় আটকে উল্টে যাচ্ছে এবং ছোটখাটো দুর্ঘটনা এখন নিত্যদিনের সঙ্গীতে পরিণত হয়েছে।
দীর্ঘদিনের দাবি সত্ত্বেও মেলেনি প্রতিকার: স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, কৈজুরী গ্রামের মানুষের জন্য এটিই প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। সড়কটির উভয় প্রান্তে পাকা রাস্তা থাকলেও মাঝখানের প্রায় দুই কিলোমিটার অংশ এখনও অবহেলিত ও কাঁচা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি পাকাকরণের দাবিতে স্থানীয়রা একাধিকবার মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
কৈজুরী গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা মো. দলিল উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বছরের পর বছর শুধু আশ্বাসই শুনে আসছি, কিন্তু রাস্তার কোনো উন্নয়ন হলো না। বর্ষা মৌসুম এলেই আমরা পুরো এলাকা থেকে যেন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি।”
একই গ্রামের বাসিন্দা প্রকৌশলী মো. মাসুদ রানা সড়কের সামাজিক প্রভার তুলে ধরে বলেন, “সড়কের এই অবস্থার কারণে জরুরি প্রয়োজনে গ্রামে অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করতে পারে না। ফলে মুমূর্ষু রোগীকে খাটিয়া বা বিকল্প উপায়ে প্রধান সড়কে নিয়ে যেতে হয়। শুধু তাই নয়, রাস্তার এমন বেহাল দশা দেখে আত্মীয়-স্বজনরা আসতে চান না, এমনকি তরুণদের বিয়ের ব্যাপারেও অনেকে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।”
শিক্ষা ও জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব: সড়কটির বেহাল অবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও শ্রমজীবীদের আয়ের ওপর। ভ্যানচালক মো. জহির আলী বলেন, “বর্ষাকালে এই রাস্তায় ভ্যান চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক সময় যাত্রী নিয়ে মাঝপথে আটকে যাই, এতে সময় যেমন নষ্ট হয়, আয়ও কমে গেছে।”
স্থানীয় শিক্ষার্থী মো. মিলন জানায়, বৃষ্টির দিনে কাদা-পানি পেরিয়ে স্কুলে যেতে গিয়ে প্রায়ই পোশাক নষ্ট হয়ে যায় এবং পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার ভয় থাকে।
কর্তৃপক্ষের আশ্বাস: কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া থেকে শুরু করে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ—সব ক্ষেত্রেই কমলপুর-কৈজুরী সড়কটির বিকল্প নেই। এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুল আজিজ জানান, সড়কটির বিষয়ে জানতে পেরে দ্রুত চলাচলের উপযোগী করতে সংশ্লিষ্টদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এটিকে স্থায়ীভাবে পাকা করার জন্য প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর আকুল আবেদন, সাময়িক মলমপট্টি সংস্কারের পরিবর্তে দ্রুত যেন সড়কটি স্থায়ীভাবে পাকা করা হয়, যাতে কমলপুর ও কৈজুরীসহ আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্দশার অবসান ঘটে।
পিডিএস/এমএইউ









































