বেড়া-সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি

  ১ ঘণ্টা আগে

সাঁথিয়ায় নিজামীপুত্রের ইমামতিতে নামাজ পড়ানো নিয়ে বিএনপি-জামায়াত হাতাহাতি

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

পাবনার সাঁথিয়া পৌর এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মরহুম মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের ইমামতিতে জুম্মার নামাজ আদায়কে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত-শিবির কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) জুম্মার জামাতের ঠিক আগমুহূর্তে পৌর এলাকার আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদের অভ্যন্তরে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান। তবে এতে কেউ গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন গত জুম্মায় আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদে নামাজ পড়াতে চাইলে বিএনপি কর্মীদের আপত্তির মুখে তা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে এই শুক্রবারে তিনি পুনরায় খুতবা দেওয়া ও নামাজ পড়াতে এলে মসজিদে উপস্থিত বিএনপি কর্মী-সমর্থকরা বাধা দেন। এতে মসজিদের ভেতরেই দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি শুরু হয়। পরে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আগে থেকেই মোতায়েন থাকা পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরবর্তীতে মসজিদের নির্ধারিত ইমামের ইমামতিতেই জুম্মার নামাজ সম্পন্ন হয়।

ঘটনার বিষয়ে সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি মো. করিম অভিযোগ করে বলেন, “রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে এমপি সাহেব লোকজন নিয়ে মসজিদে এসেছিলেন। তিনি ইমাম সাহেবের হাত থেকে মাইক নিয়ে প্রায় ১০ মিনিট বক্তব্য দেন, যা নিয়ে কেউ বাধা দেয়নি। কিন্তু তিনি যখন নিজে খুতবা দেওয়া ও নামাজ পড়ানোর ঘোষণা দেন, তখন স্থানীয়রা আপত্তি জানান। এ সময় জামায়াত-শিবিরকর্মীরা হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে নির্ধারিত ইমাম দিয়ে নামাজ সম্পন্ন হয়।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, “আমি ক্ষমতা প্রদর্শন করতে বা ইচ্ছাকৃতভাবে ঝামেলা করতে যাইনি; স্থানীয়দের আমন্ত্রণে ও দাবির মুখে সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু খুতবার সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বহিরাগত লোক এনে হট্টগোল শুরু করে। তারা আমাদের স্থানীয় নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হয় এবং নামাজ শেষে এক কর্মীর দোকানে হামলা ও লুটপাট চালায়।” এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

সার্বিক বিষয়ে সাঁথিয়া থানার ওসি আনিসুর রহমান জানান, সেখানে ইমামতি করা নিয়ে বাকবিতণ্ডা বা ঝামেলার আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। তাই অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়। জুম্মার আগের মুহূর্তে মসজিদের ভেতর সামান্য কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়