চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
জীবননগরে শিশু মরিয়ম ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

দীর্ঘ আড়াই বছর পর চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার ‘গোয়ালপাড়া আঁখি প্রি-ক্যাডেট স্কুল’-এর তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী মরিয়ম খাতুন হত্যা ও ধর্ষণের চর্বিত মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) জেলার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোক্তাগীর আলম একমাত্র আসামি আবুল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন। রায়ের পর তাকে কড়া পুলিশ প্রহরায় কারাগারে পাঠানো হয়। মোট ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও শুনানি শেষে বিচারক এ রায় প্রদান করেন।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় জীবননগর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক ইকবাল হোসেনের দুই মেয়ে মরিয়ম খাতুন (১০) ও আছিয়া খাতুন (৮) প্রতিবেশী শিশু হুযাইফা (৭) ও সিনহা খাতুনকে নিয়ে স্থানীয় হাড়িভাঙ্গা মাঠে শাক তুলতে যায়। বেলা ১২টার দিকে আছিয়া ও তার সঙ্গীরা বাড়ি ফিরে জানায়, মাঠে শাক তোলার সময় এক ব্যক্তি রাস্তার ওপর ভ্যান রেখে তাদের কাছে আসে। সে মরিয়মকে শাক তুলে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কাছেই একটি ভুট্টাখেতের দিকে নিয়ে যায় এবং বাকিদের সেখানে অপেক্ষা করতে বলে।
দীর্ঘ সময় পর ওই ব্যক্তি একা ফিরে এলে মরিয়মের বিষয়ে জানতে চায় শিশুরা। তখন সে জানায়, মরিয়ম একটু পরেই আসবে। ঘটনাটিতে সন্দেহ হলে মরিয়মের মা ও প্রতিবেশীরা মাঠে গিয়ে স্থানীয় আলী হোসেনের ভুট্টাখেতে মরিয়মের গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর জীবননগর থানার উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম তদন্ত শেষে জীবননগরের গয়েশপুর গ্রামের আবু তাহের মোল্লার ছেলে আবুল হোসেন ওরফে ফটিককে (২৯) একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
মামলার বিচার চলাকালে আসামি আবুল হোসেন চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এছাড়া, ফরেনসিক পরীক্ষায় তার ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে।
গত বুধবার চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে বিচারক আজ সোমবার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছিলেন। অভিযোগপত্র ও ডিএনএ রিপোর্টসহ নানা তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত এ রায় দেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট এম. এম. শাহজাহান মুকুল রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করেছিলাম এবং বিচারক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন।” মামলায় আসামিপক্ষের রাষ্ট্রীয় আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স) ছিলেন ওহিদুজ্জামান মুকুল। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর এই রায়ে মরিয়মের পরিবার ও স্থানীয়রা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
পিডিএস/এমএইউ









































