reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১৪ ঘণ্টা আগে

বন্যার শঙ্কা

পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে

বন্যার এক ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই আবার দেখা দিয়েছে বন্যার শঙ্কা। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর টানা ভারী বর্ষণে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নদনদীর পানি আবার বাড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার কুশিয়ারা নদীর পানি দুটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে, রাজশাহী বিভাগের আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নওগাঁ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া অব্যাহত বৃষ্টির কারণে সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে যমুনা নদীর পানি হু-হু করে বাড়ছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে নদীভাঙন। বিশেষ করে যমুনার চরাঞ্চলে অবস্থিত চরগিরিশ ইউনিয়নের ভাঙনে দিশাহারা নদীপাড়ের মানুষ। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন স্থাপনা।

বাপাউবোর দেশজুড়ে থাকা ১২৭টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৯টি পয়েন্টে পানি বেড়েছে, ৫০ টিতে কমেছে এবং ৮টি পয়েন্টে অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে বিপৎসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। এ ছাড়া নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে আসায় ওই এলাকার মানুষের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। পূর্বাভাসে জানানো হয়, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাজশাহী বিভাগের আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীর পানি আরো বাড়তে পারে। এর ফলে আত্রাই নদী নওগাঁর কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি নাটোর, সিরাজগঞ্জ এবং নওগাঁর নদীসংলগ্ন নিচু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। উত্তরাঞ্চলের লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলগুলোতেও পানি বেড়ে সাময়িক প্লাবন দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন স্থিতিশীল থাকলেও এর আশপাশের কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের নিচু এলাকা প্লাবিত হতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ভেতরে চট্টগ্রামে ১৭৯ মিলিমিটার, সুনামগঞ্জে ১০৩ মিলিমিটার, লরেরগড়ে ৮৫ মিলিমিটার, ভাগ্যকূলে ৮১ মিলিমিটার এবং জাফলং ও কক্সবাজারে ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এর ফলে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বেড়ে বান্দরবান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে নদী তীরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি যেকোনো জরুরি তথ্যের জন্য জাতীয় তথ্য সেবার ১০৯০ নম্বরে অথবা কেন্দ্রের হটলাইন নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

বলা বাহুল্য, বন্যা বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত করে তোলে। বন্যা উপদ্রুত এলাকার মানুষের প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখা দেয় খাদ্য ও নিরাপদ পানির সংকট। নিরাপদ পানির অভাব থেকে নানা রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও থাকে। এ ছাড়া দেখা দেয় যোগাযোগ সংকটও। কাজেই বন্যা মোকাবিলার পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। বাংলাদেশ ভাটির দেশ হওয়ায় এখানে প্রতি বছরই কম-বেশি বন্যা দেখা দেয়। দেশের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নদীর উৎস দেশের ভূ-সীমানার বাইরে। অভিন্ন নদীগুলোর গতিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে আগামী দিনেও দেশে কিংবা উজানে অসময়ে ভারী বর্ষণ হতে পারে। তাতে বন্যা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়